• ই-পেপার

পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা : এক মাসে ঝরল ১৪ প্রাণ

মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারৈয়াঢালা রেঞ্জের আওতাধীন সব পাহাড়ি ঝরনায় আগামী তিন দিনের জন্য পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে খৈয়াছড়া, সহস্রধারা, নাপিত্তাছড়া, সোনাইছড়া, রূপসী ও বাওয়াছড়া ঝরনাসহ বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত সব পর্যটনকেন্দ্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন কোনো ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ সময় সব ধরনের টিকিট বিক্রিও বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ জানায়, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ঢল, পাহাড়ধস এবং ঝরনাগুলোতে পানির তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের ইজারাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো পর্যটককে ঝরনায় প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না এবং কোনো ধরনের টিকিট বিক্রি করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঝরনাগুলোতে পানির স্রোত অত্যন্ত প্রবল। এ সময়ে সেখানে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, প্রতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ঝরনায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এবারও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ঝরনাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ।

ফতুল্লায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীকে কুপিয়ে জখম

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ফতুল্লায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীকে কুপিয়ে জখম
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদী ওমর খৈয়ামকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় জাহিদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোরকা পরিহিত জাহিদ সাত থেকে আটজন মুখোশধারী সহযোগীকে নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় ওমর খৈয়ামের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহিদ এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে বাধা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া এবং পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ছুরিকাঘাত করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত জাহিদকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চলছে। তিনি বিভিন্ন সময় বোরকা পরে আত্মগোপনে চলাফেরা করেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছু সময় পর ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই মামলা প্রত্যাহার না করায় এবার তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।

গঙ্গামতি সৈকত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
গঙ্গামতি সৈকত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গঙ্গামতি সমুদ্রসৈকত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি গঙ্গামতি সৈকতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে তারা কুয়াকাটা নৌ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, মরদেহটি সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া কোনো ব্যক্তি বা ট্রলারডুবির শিকার কোনো জেলের হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটির আনুমানিক বয়স ৩৫ থেকে ৩৮ বছর। মরদেহটির পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও সাদা গেঞ্জি। গেঞ্জিতে ‘বাংলাদেশ ইসলামী যুব আন্দোলন, চট্টগ্রাম’ লেখা এবং সংগঠনের লোগো রয়েছে।

কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গঙ্গামতি সৈকত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

ঝিনাইদহে কুকুরের কামড়ে আহত ৬

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে কুকুরের কামড়ে আহত ৬
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কুকুরের কামড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাইকপাড়া ও কালীগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজারের হাটচাঁদনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে নলপাঙ্গা সড়ক ধরে কালো রঙের একটি কুকুর পাইকপাড়া গ্রামে আসে। এ সময় কুকুরটি একে একে পাঁচজনকে কামড় দেয়। পরে একই সড়ক ধরে কালীগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করে। বাজারের পুরাতন হাটচাঁদনী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা আসুম কাজি নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা করে তাকেও জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কুকুরের কামড়ে জখম পাইকপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় একটি কুকুর আচমকা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড় দেয়। একই সময় পাইকপাড়া গ্রামের নারীসহ আরো চারজনকে কামড় দেয়।

কুকুরের কামড়ে জখম আসুম কাজি জানান, তার বাড়ি উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামে। স্থানীয় গ্রামের ব্যবসা করেন তিনি। ব্যবসার মাল নিতে দুপুরে কালীগঞ্জ শহরে এসেছিলেন। হঠাৎ একটি কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাতের একটি আঙুলের আংশিক ছিঁড়ে ফেলে। এ ছাড়া তার পরিহিত জামা ও প্যান্ট ছিঁড়ে ফেলে। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শিশির কুমার ছানা জানান, কুকুরের কামড়ে জখম ছয়জন হাসপাতালে এসেছিল। সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ভ্যাকসিন নেওয়ার সময় উল্লেখ করে চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়েছে।