নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন ফারুক। প্রকাশ্যে থাকলেও পুলিশ গ্রেপ্তার না করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আসামি ফারুক রায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামিম ওসমান ও নোয়াখালী-১ চাটখিল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিমের আস্থাভাজন ছিলেন।
স্থানীরা জানান, গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের এমপিদের দাপটে বিএনপির নেতাকর্মীদের নানানভাবে হয়রানি করেন জয়নাল আবেদীন ফারুক। এমপিদের নাম ভাঙ্গিয়ে মিতালী মার্কেট থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ও তার নিজের চাটখীল এলাকায় রয়েছে তার একাধিক বাড়ি ও জমাজমি। দুর্নীতি দমন কমিশন তার সম্পদের হিসাব দেখলে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে ফারুক মিয়া ও তার সহযোগিরা আওয়ামীলীগের ব্যানারে বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিও পালন করেছেন। ফলে ছাত্রদের আন্দোলনে রুখতে তাদের উপর হামলা চালায়। ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জয়নাল আবেদীন ফারুক বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেকে বড় ধরনের নেতা পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছে। যার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র জনতার ওপর হামলার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও ঢাকায় প্রায় ৮-৯ টি মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি। সে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সাহেবপাড়া, কান্দাপাড়া, রহিম মাকের্ট, নাজু মাকের্ট ও ফতুল্লার রগুনাথপুর, মাহমুদপুরসহ আশেপাশের এলাকার বিএনপি ও জামাতের নেতাকর্মীদের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেছে। তার এই সমস্ত কাজে সহযোগিতা করছেন ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়ন ১ নম্বর ওয়ার্ড রঘুনাথপুর এলাকার নাজমুল নামের এক আওয়ামীলীগ নেতা। যে গত ১৭ বছরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেলের দোসর হয়ে কাজ করেছিল। ভোল পাল্টে এখন সে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির নাম ব্যবহার করে আবারও মাঠ দাবড়িয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জয়নাল আবেদীন ফারুক আওয়ামীলীগের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার ও জুলুম করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় এলাকায় সে কিভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মিতালী মার্কেটের এক ব্যবসায়ী জানান ফারুক ও তার সহযোগিরা আমাদের দোকানদারদের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবৈধভাবে বাড়ি ও গাড়ির মালিক হয়েছেন। তাকে আইনের আওতায় এনে সম্পদের হিসাব নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী কালের কণ্ঠকে জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যার আসামীদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করছে পুলিশ। ফারুকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




