• ই-পেপার

সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন একাধিক হত্যা মামলার আসামি

শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্তের অভিযোগ, আটক ৪
সংগৃহীত ছবি

বরিশাল নগরীর জগদীশ সারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে চার বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- নগরীর কালীবাড়ি রোড এলাকার সোহরাব হোসেন খানের ছেলে হাসান মাহমুদ খান, একই এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল তামিম, শুকুর লাল আচার্যের ছেলে প্রতিম আচার্য ও রতন কুমার দাসের ছেলে হৃদয় দাস।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কয়েক জন যুবক জগদীশ সারস্বত স্কুলের সামনে বসে স্কুলের ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের অশ্লীল ভাষায় উত্ত্যক্ত করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিদ্যালয়টির সামনে অভিযান পরিচালনা করি। এসময় আমরা অভিযুক্ত এই চারজন আটক করি এবং অভিভাবকরা তাদের চিহ্নিত করে।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুনুল ইসলাম জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জগদীশ সারস্বত স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে চারজন উত্ত্যক্তকারীকে আটক করে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা : জিডি করতে এসে গ্রেপ্তার স্বামী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা : জিডি করতে এসে গ্রেপ্তার স্বামী
ছবি : কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানো স্বামী আলমগীর হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২০ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিজ বাড়ির উঠান থেকে স্ত্রী জাহেদা বেগমের (৩৮) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী জাহেদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি বাড়ির উঠানে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। নিজে বাঁচার জন্য আলমগীর এক চতুর কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি আজ রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। 

পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে বিদেশে চলে গেছেন। তবে জিডি করার সময় আলমগীরের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আলমগীর ভেঙে পড়েন এবং হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে জাহেদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক স্বামী আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই ধান বিভিন্ন কম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করতেন ব্যবসায়ী

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
একই ধান বিভিন্ন কম্পানির মোড়কে প্যাকেটজাত করতেন ব্যবসায়ী
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নিজবাড়িতে বসেই একই ধানের বীজ বিভিন্ন কম্পানির নামে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করতেন ফিরোজুর রহমান ফিরোজ নামের এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।

ফিরোজুর রহমান ফিরোজ আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম মানিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার জাবারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ‘স্টার সিড’, ‘বিসমিল্লাহ সিড’ ও ‘পদ্মা সিড’ নামে আকর্ষণীয় মোড়ক তৈরি করে ধানের বীজ বাজারজাত করতেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে জয়পুরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসের বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা উম্মে ছালমা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান। এসময় ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামীয় ধান বীজের প্যাকেট জব্দ করা হয়।

জয়পুরহাট জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা উম্মে ছালমা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো ধরনের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ধান বীজ উৎপাদন ও মোড়কজাত করছিলেন। বীজ প্রত্যয়ন ছাড়া কিংবা ভুয়া মোড়ক ব্যবহার করে বীজ বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ যাতে ভুয়া বা নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আজ এই ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

গোপালগঞ্জ

ধর্ষণ মামলায় নারীসহ ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ধর্ষণ মামলায় নারীসহ ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় নারীসহ দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উভয়কে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া গ্রামের উজ্জ্বল বিশ্বাস প্রতিবেশী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ওই শিক্ষার্থী রাজি না হওয়ায় ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় অপর আসামি প্রতিবেশী কল্পনা বিশ্বাসকে দিয়ে পিঠা বানানোর লোভ দিয়ে শিক্ষার্থীকে ডেকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। সে সময় অপর আসামি উজ্জ্বল বিশ্বাস কল্পনার সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই বছরের ১০ অক্টোবর কাশিয়ানী থানায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পরে তদন্ত ও সাক্ষ্য শেষে আদালত উজ্জ্বল বিশ্বাসকে যাবজ্জীবন ও এক লাখ টাকা এবং কল্পনা বিশ্বাসকে সহযোগিতার অভিযোগে যাবজ্জীবন ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাদের আলী খান বলেন, এই মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। আশা ছিল আমার মক্কেলরা ন্যায়বিচার পাবে। কিন্তু তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আশা করি সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌফিকুল আসলাম বলেন, ছয় বছর পর রায় হলো। এই রায়ের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো। যারা এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের এই রায়ের মাধ্যমে সতর্ক বার্তা দেওয়া হলো। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।