• ই-পেপার

১৭ বছর পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পাঠাগার ফের চালু

ডিসি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ডিসি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচিত প্রবাহে প্রথমবার মুখ খুললেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়া সফর শেষে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘তিনি (ডিসি) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে বসে অচিরেই স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করব।’

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। চার দিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক মাজার ইস্যু ও জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় প্রশাসন ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং আমরা সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সংযুক্ত নয়। এটা আগে-পরেও হতে পারত।’

সম্প্রতি কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ প্রবাসী নিহতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। নিহতদের পরিবারকেও সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ 

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও বিশ্রামাগারসহ নানা বিষয়ে উদ্যোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স বসানো হয়। মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার কথা বলে পিতলের তিনটি ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসন।

এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রবিবার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসককে হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়। এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর ২টায় হঠাৎ দরগাহে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার। সেখানে প্রশাসনের বসানো ৪টি দানবাক্স, দরগার মহিলা এবাদতখানার একটি দানবাক্স এবং সিলগালা করা তিনটি পিতলের ডেগের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা গণনা শেষ প্রশাসন জানায়, চারদিনে এসব দানবাক্স ও ডেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা সোনা ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া গেছে। পরে প্রশাসন দানের সব টাকা সোনালী ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।

ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, আহত ১

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকায় আবারও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কৃষক আহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত কৃষকের নাম শফি আলম। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজুয়ামতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হালু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৪১ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং হাতুরানী বিওপি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফি আলম (৩০) আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তসংলগ্ন জনপদে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে কৃষিকাজ, বাগান পরিচর্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় তারা অজানা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, একই এলাকার নিকটবর্তী স্থানে গত ২৪ মে পরপর দুটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন স্থানীয় আদিবাসী নিহত হন। ওই ঘটনার এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমান্তবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলম বলেন, ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকায় একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।


 

ডামুড্যায় মাদকবিরোধী অভিযানে একজনের ১২ মাসের কারাদণ্ড

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
ডামুড্যায় মাদকবিরোধী অভিযানে একজনের ১২ মাসের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে মোবাইল কোর্টে মো. ইদ্রিস হাওলাদার (২৫) ও সুমাইয়া (১৮) নামের দুজনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে একজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের চরশিধলকুড়া গ্রামের আকনবাড়ি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল রহমান। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস হাওলাদারকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে সুমাইয়ার ব্যাগ থেকে গাঁজার পুরিয়া উদ্ধার করা হলেও তিনি এর মালিকানা অস্বীকার করেন। গাঁজা বহন সংক্রান্ত অভিযোগ মোবাইল কোর্টে বিচারযোগ্য না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গাইবান্ধায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

রেস্টুরেন্টে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধায় একটি রেস্টুরেন্টে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আমির উদ্দিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেড়ামারা ব্রিজসংলগ্ন ‘জাফলং চায়নিজ ফাস্টফুড’ রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ভেড়ামারা এলাকার ‘জাফলং চায়নিজ ফাস্টফুড’ রেস্টুরেন্টে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত আমির উদ্দিনকে আটক করে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে অভিযুক্তকে আটকের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই রেস্টুরেন্টে অগ্নিসংযোগ করলে গোটা রেস্টুরেন্টটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক দিন ধরেই ঘাঘট নদীসংলগ্ন এই রেস্টুরেন্টে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। সন্ধ্যার পর থেকে একশ্রেণির নারী-পুরুষ এখানে অবাধে অনৈতিক মেলামেশার সুযোগ পায়। এটিকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসাও জমজমাট ছিল।

খোলাহাটির সামশু মিয়া বলেন, ‘এই শিশু ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। জেলার বিভিন্ন স্পটে অনেক রাত পর্যন্ত ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এজাতীয় রেস্টুরেন্টগুলোতে কী হয় পুলিশের তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি-সার্কেল শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ভিকটিমকে মেডিক্যালের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।