• ই-পেপার

ডামুড্যায় মাদকবিরোধী অভিযানে একজনের ১২ মাসের কারাদণ্ড

রামগড়ে গোলাগুলি, দীঘিনালায় হামলা : নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য

খাগড়াছড়ি, রামগড় ও দীঘিনালা প্রতিনিধি
রামগড়ে গোলাগুলি, দীঘিনালায় হামলা : নিহত দুই ইউপিডিএফ সদস্য
সংগৃহীত ছবি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত)-এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরো একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

বুধবার (২৪ জুন) এসব ঘটনা ঘটে। একই দিনে দীঘিনালায় সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফের আরো এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সিন্ধুকছড়ি জোনের একটি টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।

গোলাগুলির একপর্যায়ে রামগড় উপজেলার মাজারটিলা এলাকার বাসিন্দা ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। আহত হন মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯)। পরে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত) নিহত ববিন ত্রিপুরাকে তাদের কর্মী বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে আহত মংসানু মারমাকে আটকের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, দুর্গম এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় মরদেহ উদ্ধার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া চৌমুহনী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিনন্দ মোহন চাকমার ছেলে।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সুজন চাকমা একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিশেষ পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি দোকানের পেছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে অনুসরণ করে আরো গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সুজন চাকমার বিরুদ্ধে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

ইউপিডিএফ (প্রসিত)-এর দীঘিনালা সংগঠক সজীব চাকমা এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি (সন্তু)-কে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মা ফার্মেসী ও সুধা ফার্মেসী নামে দুই ফার্মেসিকে ওষুধ সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কালারুকা বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ সুপার) মিঠুন সাহার যৌথ নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পলস মজুদ রাখা, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং ফ্রিজে রাখার মতো তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথানিয়মে সংরক্ষণ না করার অপরাধে এই দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের ড্রাগ সুপার মিঠুন সাহা জানান, ইনসুলিন ও ভ্যাকসিনসহ বেশ কিছু তাপ সংবেদনশীল ওষুধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই দুই ফার্মেসিতে এসব তাপ সংবেদনশীল ওষুধ যথানিয়মে সংরক্ষণ না করে সাধারণ তাপমাত্রায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। 

তিনি আরো জানান, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখতে আমাদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাহিদুল ইসলাম জানান, ফার্মেসিগুলোকে শতভাগ নিয়ম মেনে ওষুধ বিক্রি করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং ওষুধের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

পাবনার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস

ঝাড়ুদার করছেন অফিস সহায়কের কাজ, নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা

প্রবীর সাহা, পাবনা
ঝাড়ুদার করছেন অফিস সহায়কের কাজ, নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে কম্পিউটারে কাজ করছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের কম্পিউটারে কাজ করে সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা। মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ঝাড়ুদারের চাকরি করে গ্রামে করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। হাসানের গ্রামের বাড়ি আতাইকুলা বাজার এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামে গেলে তার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা বিলাসবহুল সেই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করছেন হাসান আলী খাঁ নামে এক যুবক। আতাইকুলা ইউনিয়নের মাধপুর আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচ.এস.সি পাস করা হাসান চাকরি করেন ঝাড়ুদার পদে।

আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে তিনি ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় চাকরির প্রথম থেকেই ঝাড়ুদারের পাশাপাশি অফিস সহায়কের কাজ করছেন হাসান। কাজের সুবাধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মো. নবী বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর আগে অস্থায়ী পদ ঝাড়ুদার হিসাবে হাসান আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পরপরই এই চতুর হাসান ভূমি অফিসের অফিসার দাবি করে অফিস সহায়কের কম্পিউটারে বসে নোটিশসহ বিভিন্ন অনলাইন আবেদনের কাজ করে আসছে। ওই অঞ্চলের সেবা গ্রহীতারা সাধারণ বেশিরভাগ কৃষক। সাধারণ কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে জমির কাগজপত্র বিভিন্ন ভুল আছে ভয় দেখিয়ে খারিজ খাজনা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন।’

তিনি আরো জানান, সরকারি ‘ক’ তফিল ও ‘খ’ তফিল বর্ণিত সম্পত্তিগুলো কৃষকের নিজ নামে করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি  দিয়ে লাখ লাখ টাকা সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে নিলেও সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে কোন টাকা জমা না দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন। হাসানের কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।  

এ বিষয়ে আরো এক ভুক্তভোগী আতাইকুলার শরিফুল ইসলাম জানান, আমার বাবা ও মায়ের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির খাজনা না দেওয়ার কারণে খাস খতিয়ানে চলে যায়। এলাকার কিছু চতুর ব্যক্তি খাস খসিয়ান দেখে লিজ নেওয়ার আবেদন করে। আমি উপায়ান্তর না দেখে ভূমি অফিসে গিয়ে হাসানের সঙ্গে পরিচয় হয় হাসান বলে আপনাকে খাস আদায়কারী হিসাবে আদেশ নিয়ে দেব। আপনি আমাকে ১ লাখ টাকা দেবেন। দেন-দরবার শেষে ৬৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়ে হাসানকে টাকা দিই। হাসান উক্ত টাকার কোনো রশিদ আমাকে দেয়নি। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে গিয়ে খবর নিয়ে জানতে পারি হাসান কোনো টাকা জমা দেয়নি। উক্ত টাকার রশিদ রশিদ দেও, না হলে টাকা ফেরত দাও। টাকা চাইলে আজ, দেব, কাল দেব, কাগজ করে দিয়েছি আপনার জামাইয়ের নামে কাগজ করে দিয়েছি নানা টালবাহানা করে এবং আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়।’ সহকারী কমিশনার ভূমি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমার আবেদন এ ধরনের চতুর লোকের বিচার চাই এবং টাকা ফেরত পাওয়ার সার্বিক সহযোগিতা চাই।

এ বিষয়ে হাসান আলী খাঁ বলেন, ‘স্যারদের মৌখিক নির্দেশে আমি চাকরির শুরু থেকেই কম্পিউটারে কাজ করি এবং পাশাপাশি ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পালন করি।’ হাসান আরো বলেন, ‘২০১৭ সালে ঝাড়ুদার পদে আর আতাইকুলা ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে চাকরি করি এখনো স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে কম্পিউটার জানায় স্যাররা আমাকে দিয়ে কম্পিউটারে কাজ করান।’

বিলাসবহুল বাড়ি প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘জমি বিক্রি ও পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে বাড়ি করেছি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসান বলেন, ‘আমি অফিসের কাজ করি।  টাকা নিয়ে কাজ করি না। আপনারা তদন্ত করে দেখেন। এসব অভিযোগ মিথ্যা। 

আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসান ঝাড়ুদার হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগে ৩ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। জনবল সংকটের কারণে তাকে দিয়ে কম্পিউটারের কাজ করানো হচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অফিস করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি নিশ্চুপ থাকেন। ঝাড়ুদার পদে কর্মরত থেকে কিভাবে একজন অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে অফিশিয়াল কোন অনুমতি ছাড়া কাজ করছেন, এমন অভিযোগের কোনো উত্তর তিনি দেননি। এই চেয়ারে বসে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন এমন অভিযোগে প্রশ্ন করলে বলেন, ‘এখানে কোনো অনৈতিক কাজ হয় না।’

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শতাধিক দোকান উচ্ছেদ, মালিকানা নিয়ে পৌরসভা-সওজ দ্বন্দ্ব

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
শতাধিক দোকান উচ্ছেদ, মালিকানা নিয়ে পৌরসভা-সওজ দ্বন্দ্ব
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা ঢুলিভিটা বাজারে শতাধিক দোকান উচ্ছেদের ঘটনায় সামনে এসেছে জমির মালিকানা নিয়ে ধামরাই পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দ্বন্দ্ব। একদিকে পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করেছে, অন্যদিকে সওজ দাবি করছে, তাদের জমিতে গড়ে ওঠা কোনো বাজার ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার পৌরসভার নেই। ফলে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার ঢুলিভিটা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সওজের মানিকগঞ্জ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী সওজের জমিতে গড়ে ওঠা কোনো হাট-বাজার পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ ইজারা দিতে পারে না। তবে গত কয়েক বছর ধরে ধামরাই পৌরসভা বাজারটি ইজারা দিয়ে আসছিল এবং ইজারাদার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত টোল আদায় করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঢুলিভিটা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। যানজট নিরসন ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও সওজের যৌথ উদ্যোগে বুধবার বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে লোডারচালক মনির হোসেন, সহকারী আব্বাস আলীসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেদিনের অভিযান স্থগিত করা হয়।

বাজারের ইজারাদার হাবিবুর রহমান বলেন, পৌরসভা থেকে বৈধভাবে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাজারের ইজারা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বাজারে অগ্রিম বিনিয়োগও করা হয়েছে। কিন্তু সওজের উচ্ছেদ অভিযানের কারণে তিনি এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সওজের জমি হওয়া সত্ত্বেও পৌরসভা কেন বাজারটি ইজারা দিল এবং এখন ক্ষতিগ্রস্তদের দায় কে নেবে?

এ বিষয়ে ধামরাই পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম নবী বলেন, পৌর এলাকার ভেতরে পরিচালিত কোনো হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার পৌরসভার রয়েছে।

তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সওজের জমিতে যখন অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠছিল, তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ কেন ব্যবস্থা নেয়নি? শুরুতেই উচ্ছেদ করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

অন্যদিকে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, সওজের জমিতে গড়ে ওঠা কোনো হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা পৌরসভার নেই।

তিনি আরো জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সওজের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। যানজট নিরসন, সড়কের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ঢুলিভিটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।