ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবের ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামে যমজ কন্যা সন্তান জন্মের পর এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামীপক্ষ দাবি করেছে, কন্যা সন্তান নয়, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য ও পারিবারিক বিরোধই বিচ্ছেদের মূল কারণ।
ভুক্তভোগী রিনা খাতুনের অভিযোগ, গর্ভে যমজ কন্যা সন্তান রয়েছে জানতে পারার পর থেকেই তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানেই জন্ম নেয় তিন মাস বয়সী যমজ দুই কন্যাশিশু। রিনা ও তার মা হালিমা খাতুন দাবি করেন, সন্তান জন্মের পর স্বামী রাকিবুল ইসলাম তাকে তালাক দেন। এমনকি দেনমোহরের টাকা পরিশোধের জন্য সন্তান বিক্রির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, রাকিবুল ইসলাম এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কন্যা সন্তান জন্মের কারণে নয়, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরেই বিচ্ছেদ ঘটেছে। তিনি বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করার পর জানতে পারেন রিনার আগেও একাধিক বিয়ে হয়েছিল। এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো এবং রিনার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন।
রাকিবুল আরো অভিযোগ করেন, তালাক ও দেনমোহরকে কেন্দ্র করে তার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, বারবার বিয়ে ও বিচ্ছেদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের একটি প্রবণতা রয়েছে এবং বর্তমান ঘটনাও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।
রাকিবুলের বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা শামসুন্নাহার বলেন, যমজ কন্যা সন্তান জন্মের কারণে রিনাকে তালাক দেওয়া হয়নি। রিনা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা পর্যন্ত তাদের বাড়িতেই ছিলেন। সন্তান জন্মের সময় তারা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করেছেন। তাদের দাবি, কন্যা সন্তান জন্মকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ ছিল না। বরং দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয়ে মতবিরোধ চলছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন রুহু বলেন, বিষয়টিকে এখনই শুধুমাত্র কন্যা সন্তান জন্মের কারণে তালাক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্ত হলে ঘটনার পেছনের আরো অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, যমজ কন্যা সন্তান জন্মের পর তালাক দেওয়ার অভিযোগ প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে তিন মাস বয়সী দুই কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের তদন্ত শেষে সত্য ঘটনা সামনে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।





