• ই-পেপার

অপেক্ষার অবসান, আগস্টে মুক্তি পাচ্ছে যশের ‘টক্সিক’

‘মাথার ওপর থেকে বাবার স্নেহের হাতটা চলে গেলে পৃথিবী ফাঁকা লাগে’

বিনোদন প্রতিবেদক
‘মাথার ওপর থেকে বাবার স্নেহের হাতটা চলে গেলে পৃথিবী ফাঁকা লাগে’
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন এক পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে তিনি বাবার স্মৃতি, শূন্যতা এবং জীবনের গভীর অনুভূতি তুলে ধরেন।

চঞ্চল চৌধুরী লিখেছেন, “কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে বাবা দিবস উপলক্ষে একটা ইন্টারভিউ চাচ্ছিল। বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা! কী বলব, বলেই বা কী লাভ? বাবাকে হারিয়েছি প্রায় চার বছর আগে! ‘বাবা’ শব্দটা বুকের ভেতর থেকে বের হয়ে মুখে আটকে আছে চারটা বছর!”

তিনি আরো জানান, বাবার কথা মনে পড়ে ঘুমহীন এক রাতে তিনি বাবার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে সময় কাটিয়েছেন। 

সেই অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি লেখেন, ‘গতকাল রাতে ঠিক কোনোভাবেই ঘুম আসছিল না। বাবার কথা খুব মনে পড়ছিল। বারবার লাইট জ্বালিয়ে ফ্রেমে বাঁধানো বাবার ছবিটা দেখছিলাম। তারপর সলীল চৌধুরীর লেখা এই কবিতার কথা মনে হলো। বারবার গলা কাঁপছিল, চোখ ভিজে যাচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত কবিতাটা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করলাম!’

বাবার শূন্যতার অনুভূতি প্রকাশ করে এই অভিনেতা বলেন, ‘মাথার ওপর থেকে যখন বাবার ভরসা আর স্নেহের হাতটা চলে যায়, পিতৃহারা সন্তানরা তখন বুঝতে পারে পৃথিবী কতটা ফাঁকা! আর কিছু নয়, অন্তত বাবার আদর্শ ধারণ করে যেন বাকি জীবনটা কাটাতে পারি!’

শেষে তিনি সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে বলেন, বাবা দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সব বাবাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

ধানুশ-মৃণালের সম্পর্কে ভাঙন?

বিনোদন ডেস্ক
ধানুশ-মৃণালের সম্পর্কে ভাঙন?
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণী সুপারস্টার ধানুশ এবং বলিউড অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুরের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। একাধিকবার একসঙ্গে জনসমক্ষে দেখা যাওয়ায় তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। 

তবে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সম্পর্ক নাকি এখন শেষ হয়ে গেছে।

ফিল্মফেয়ারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই তারকা ইতিমধ্যেই আলাদা হয়ে গেছেন। তবে তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কয়েক মাস ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও ধানুশ এবং মৃণাল—দুজনেই বরাবরই বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছেন। এমনকি জনসমক্ষে একসঙ্গে উপস্থিত হলেও তারা কখনোই সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

গুঞ্জনের সূত্রপাত হয় বিভিন্ন ইভেন্ট ও সিনেমার প্রিমিয়ারে তাঁদের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি ঘিরে। বিশেষ করে ধানুশের একটি সিনেমার প্রিমিয়ারে মৃণালকে ঘিরে আলোচনার ঝড় ওঠে। 

তবে সে সময় মৃণাল বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, আমন্ত্রণের বিষয়টি পরিচালকের পক্ষ থেকেই এসেছে।

ধানুশ বরাবরই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রজনীকান্তের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তাঁদের আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত ভক্তদের জন্য ছিল বড় ধাক্কা।

বর্তমানে ধানুশ ক্যারিয়ারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁকে শেষ দেখা গেছে ‘ইডলি কড়াই’ ছবিতে। পাশাপাশি তিনি কাজ করছেন নতুন প্রজেক্ট ‘ওম চ্যাপ্টার ১’-এ।

অন্যদিকে মৃণাল ঠাকুরও দারুণ ফর্মে আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর একাধিক সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এবং নতুন বেশ কিছু বড় প্রজেক্টেও কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘পূজা মেরি জান’ ও ‘রাকা’। ‘রাকা’ ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে আল্লু অর্জুন, দীপিকা পাড়ুকোন ও রাশমিকা মান্দানার মতো তারকাদের সঙ্গে।

আজীবন বেঁচে থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি বাবা : তৌসিফ

বিনোদন প্রতিবেদক
আজীবন বেঁচে থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি বাবা : তৌসিফ
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে বাবাকে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া এক স্মৃতি শেয়ার করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের শৈশবের ত্যাগ, বাবার স্বপ্ন ও ভালোবাসার গল্প।

তৌসিফ লিখেছেন, ‘যখন আব্বুর মাসিক আয় ছিল মাত্র ৮ হাজার টাকা, তখন তিনি আমাকে ৪ হাজার টাকা বেতনের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। কারণ তার একটাই স্বপ্ন ছিল তার ছেলে একদিন বড় হবে, ভালো কিছু করবে, আর সবার থেকে আলাদা হবে। তিনি নিজের বাস্তবতা দেখেননি, দেখেছিলেন আমার সম্ভাবনা।’

বাবার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আরো লেখেন, ‘আমার জন্য তিনি এমন এক স্বপ্ন দেখেছিলেন, যার মূল্য ছিল তার অসংখ্য ত্যাগ, পরিশ্রম আর আত্মত্যাগ। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা খরচ নয়, এটা সন্তানের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।’

May be an image of one or more people and grass

বর্তমান অবস্থানে এসে বাবার অবদানের কথা স্মরণ করে এই অভিনেতা লেখেন, ‘আজ আমি তার সেই স্বপ্নের কতটা পূরণ করতে পেরেছি, জানি না। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত—আজ আমি যা, তার ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছেন আমার আব্বু।’

পোস্টের শেষ অংশে বাবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তৌসিফ লিখেছেন, ‘তিনি শুধু আমার বাবা নন, তিনি আমার প্রথম শিক্ষক, প্রথম অনুপ্রেরণা। তিনিই আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, বড় করে ভাবতে শিখিয়েছেন। সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও অসীম চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। শুভ বাবা দিবস। আজীবন বেঁচে থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি বাবা।’

বাবা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের শোবিজ অঙ্গনের আরো অনেক তারকাই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় গায়িকাকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বিনোদন ডেস্ক
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় গায়িকাকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত ছবি

হিজাব ছাড়া দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করায় কঠোর শাস্তির মুখে পড়েছেন ইরানের তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। দেশটির আদালত তাকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য সংগীতচর্চা থেকে নিষিদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদি। পারফরম্যান্সের সময় তিনি হিজাব পরেননি। ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ ওই পরিবেশনাকে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেয়। গানটি প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সহশিল্পীকে আটক করা হয়। পরে তারা মুক্তি পেলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে।

Iranian artist Parastoo Ahmadi reportedly sentenced to 74 lashes for  singing without hijab | Euronews

সম্প্রতি কোম প্রদেশের আদালত সেই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পারাস্তু আহমাদি এবং তার দলের আরো আট সদস্যকে ৭৪টি করে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রায় প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

মানবাধিকারকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের ভাষ্য, এটি শুধু একজন শিল্পীর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দমনের আরেকটি উদাহরণ। 

তাদের দাবি, সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পীদের বিরুদ্ধে ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ‘দাদবান’-এর আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেছেন, এ রায়ের কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। 

তার মতে, ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া বা সংগীত পরিবেশনকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শাস্তি দেওয়া আইনের অপব্যবহার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেন, শুধু গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক।