• ই-পেপার

নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু

যশোরে প্রায় ৪ হাজার গাছের চারা বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে প্রায় ৪ হাজার গাছের চারা বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের কেশবপুরে কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে তিন হাজার ৯৭০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ চারা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর, পৌর জামায়াতের আমির প্রভাষক জাকির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবুল রানা এবং উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী সম্রাট হোসেনসহ প্রমুখ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির এবং কৃষকদের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল নারকেল, নিম, মেহগনি, কড়ই, সুপারি, কাঁঠাল ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ সুরক্ষাই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও মানুষের জন্য উপকারী। তাই প্রত্যেককে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যায়ও গুরুত্ব দিতে হবে।

গাইবান্ধা

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড
সংগৃহীত ছবি

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গাইবান্ধার ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করা হয়েছে। গত ১৯ জুন রাতে তাকে ক্লোজ করা হয়।

গাইবান্ধার ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাফিকব্যবস্থা নিয়ে ফেসবুকে কনটেন্ট বানাচ্ছিলেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। এর সূত্র ধরে নিঝুম নামের এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তার সখ্যতা তৈরি হয়। গত ১৭ জুন রাতে গাইবান্ধা পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিঝুম নামের ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাতে সেই বাসায় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর ও নিঝুমের অবস্থান বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন বাসাটি ঘিরে ফেলে এবং তাদের বের হতে বাধা দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে মাদক (ইয়াবা) উদ্ধার হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন জানান, পলাশবাড়ির ওই ঘটনায় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে যাচাই করছে পুলিশ বিভাগ।

শ্যামনগর ও আশাশুনি

পাউবোর বেড়িবাঁধের ৪০ স্থানে ভাঙন

স্থানীয়দের আতঙ্ক সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন দ্রুত পদক্ষেপ দাবি

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা
পাউবোর বেড়িবাঁধের ৪০ স্থানে ভাঙন
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর এলাকার মরিচ্চাপ নদীর বেড়িবাঁধ। রবিবার তোলা। কালের কণ্ঠ

বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়িবাঁধ নিয়ে ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে যায় সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির বাসিন্দাদের মধ্যে। এবার সেই আতঙ্ক আরো বেড়েছে। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্তত ৪০টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি উপকূলীয় এই দুই উপজেলায় পাউবোর বেড়িবাঁধের অন্তত ৪০ স্থানে কোথাও ভাঙন, কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।

এর মধ্যে আশাশুনিতে মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত তেঁতুলিয়া সেতুর পাশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া, হরিষখালী ও চাকলা এলাকায় বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া খেয়াঘাট এলাকা ও বিছট গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। 

এ ছাড়া শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, নওয়াবেকি, হরিনগর ও মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ভাঙন। পাউবো কর্তৃপক্ষ কয়েকটি স্থানে সংস্কারের কাজ করলেও তা বাঁধ রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ও পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুম সামনে রেখে তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক জায়গায় নদীর তীর ধসে পড়ছে এবং বাঁধের পাদদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বাঁধ ভেঙে গেলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছটসহ কয়েকটি গ্রামে বাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঘটনা এখনও মানুষের মনে দুঃসহ স্মৃতি হিসেবে রয়েছে। স্থানীয়রা বলছে, স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের অভাবে প্রতিবছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাউবো কর্তৃপক্ষ এসব ভাঙন পয়েন্টে কাজ করলেও তা অনেকটা দায়সারা গোছের। ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়। তাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো টেকসই মেরামত করা হোক।

আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা এলাকার সন্তোষ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘গোয়ালডাঙ্গা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মরিচ্চাপ নদী। সম্প্রতি নদীভাঙনে বাজার এলাকা ভেঙে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখানে এখন দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করলে হবে না, টেকসই বাঁধ দিতে হবে।’

আশাশুনির কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কপোতাক্ষের ভাঙনে আমরা বহু বছর আগেই বসতভিটে হারিয়েছি। এখন যেখানে আশ্রয় নিয়েছি, সেখানে নদতীরবর্তী বাঁধ ভাঙতে ভাঙতে একেবারে বাড়ির কাছে এসে ঠেকেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এখান থেকেও চলে যেতে হবে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন পোল্ডারে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের প্রায় ৪০ স্থান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, খরচ বেশি হলেও আমাদের টেকসই বেড়িবাঁধের দিকে ঝুঁকতে হবে। নইলে প্রতিবছর শতশত কোটি টাকা ব্যয়ে যেনতেনভাবে বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ গচ্চা যাবে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তার বিভাগের অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের ১০-১৫ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, আশাশুনির প্রতাপনগর ও আনুলিয়া এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ পেলে সেখানেও সংস্কারকাজ করা হবে।

বাগেরহাটে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে প্রদীপ মাঝি (৩৫) নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার গিরিশনগর গ্রামের মহাশ্মশানের পাশের একটি গাছ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত প্রদীপ মাঝি ওই গ্রামের সুমন্ত মাঝির ছেলে এবং তিনি মোল্লাহাট বাজারের একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরে গিরিশনগর মহাশ্মশানের পাশে একটি গাছে প্রদীপ মাঝিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করার কাজ চলমান রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।’