• ই-পেপার

যমজ কন্যাসন্তান নয়, পারিবারিক বিরোধেই তালাক : স্বামীর দাবি

দানবাক্সে ‘চোখ’ দিতেই বদলি আলোচিত ডিসি সারওয়ার!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
দানবাক্সে ‘চোখ’ দিতেই বদলি আলোচিত ডিসি সারওয়ার!

সিলেটে দুই ওলি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে কাজ শুরুর আলোচিত ঘটনার মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘উপসচিব (সংযুক্ত)’ পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হলো।’

জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন এক সময় মো. সারওয়ার আলমের বদলির আদেশ এলো যখন সিলেটে দুই ওলির মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। এমন পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বেশিরভাগ মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। 
এরকম সময় এমন সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ১২ জুন শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সেদিনই দরগাহের দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়া হয়।

এরপর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়। এর একদিন পর ২০ জুন শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দান বাক্সের ওপরে ও ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

এর আগের দিন ১৯ জুন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এসময় তিনি শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিস্টরা। এরকম পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিয়ামতপুরের ৩০টি ক্লিনিকে ৭ মাস ধরে ওষুধ বন্ধ, ভোগান্তিতে প্রান্তিক মানুষ

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নিয়ামতপুরের ৩০টি ক্লিনিকে ৭ মাস ধরে ওষুধ বন্ধ, ভোগান্তিতে প্রান্তিক মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার  ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রায় ৭ মাস ধরে সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনপদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সরকারি এই চিকিৎসা কেন্দ্রে এসে ওষুধ না পেয়ে প্রতিদিন খালি হাতে ফিরছেন শত শত অসহায় ও দরিদ্র মানুষ।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে শুধু হতাশা আর ক্ষোভ। গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা সামান্য জ্বর-সর্দির ওষুধের জন্যও এই সরকারি কেন্দ্রগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, তারা এখন পড়েছেন চরম বিপাকে। বাইরে থেকে চড়া মূল্যে ওষুধ কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই এই অসহায় পরিবারগুলোর।

রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা সেফালী বেগম (৫৫) নামের এক বৃদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘আমি গরিব মানুষ, বাইরে থেকে ওষুধ কেনার টাকা আমার নাই। আগে এই ক্লিনিকে আসলে সপ্তাহে দু-একদিন অল্প-স্বল্প ওষুধ পেতাম, তাতেই আমার রোগবালাই চলত। কিন্তু সাত-আট মাস ধরে এখানে কোনো ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার অভাবে দোকান থেকেও কিনতে পারছি না।

একই ধরনের কষ্টের কথা জানান দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (৪৫)। তিনি বলেন, ‘দিন খেটে যে টাকা পাই, তা দিয়ে ঠিকমত সংসারই চলে না। আগে নিজের বা ছেলে মেয়েদের জ্বর, সর্দি, কাশি হলে এখান থেকে ফ্রিতে কিছু সাধারণ ওষুধ পেতাম। এখন সাত মাস ধরে সব বন্ধ। ওষুধ না পেয়ে আমাদের গরিব মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন ক্লিনিকে অসংখ্য অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশু সুচিকিৎসার আশায় আসেন। কিন্তু ওষুধ না থাকায় নিরুপায় হয়ে তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হয়। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে এই দৃশ্য দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক, কিন্তু ওপর থেকে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় আমাদের আসলে কিছুই করার নেই।’

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তীব্র সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সাল নাহিদ ওষুধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোই বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে বেশ কিছু মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন, এটি সত্য। আমরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং গ্রামীণ মানুষ আবার পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন।

যশোরে প্রায় ৪ হাজার গাছের চারা বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে প্রায় ৪ হাজার গাছের চারা বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের কেশবপুরে কৃষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঝে তিন হাজার ৯৭০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ চারা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর, পৌর জামায়াতের আমির প্রভাষক জাকির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবুল রানা এবং উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী সম্রাট হোসেনসহ প্রমুখ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির এবং কৃষকদের মধ্যে এসব চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল নারকেল, নিম, মেহগনি, কড়ই, সুপারি, কাঁঠাল ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ সুরক্ষাই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও মানুষের জন্য উপকারী। তাই প্রত্যেককে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যায়ও গুরুত্ব দিতে হবে।

গাইবান্ধা

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড
সংগৃহীত ছবি

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গাইবান্ধার ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করা হয়েছে। গত ১৯ জুন রাতে তাকে ক্লোজ করা হয়।

গাইবান্ধার ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় ও ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাফিকব্যবস্থা নিয়ে ফেসবুকে কনটেন্ট বানাচ্ছিলেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। এর সূত্র ধরে নিঝুম নামের এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তার সখ্যতা তৈরি হয়। গত ১৭ জুন রাতে গাইবান্ধা পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিঝুম নামের ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাতে সেই বাসায় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর ও নিঝুমের অবস্থান বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন বাসাটি ঘিরে ফেলে এবং তাদের বের হতে বাধা দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে মাদক (ইয়াবা) উদ্ধার হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আলতাব হোসেন জানান, পলাশবাড়ির ওই ঘটনায় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে যাচাই করছে পুলিশ বিভাগ।