• ই-পেপার

নীলফামারীতে সাংবাদিককে পেটানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতক চুরি

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতক চুরি
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আইন্দারগাঁও সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া এক নবজাতক ছেলে শিশুকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, গত সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৬টার দিকে ছাতক থেকে বাড়ি ফেরার পথে আইন্দারগাঁও সড়কের পাশে নবজাতক শিশুর কান্নার শব্দ শুনে গাড়ি থামান সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক কাওছার আহমেদ। পরে তিনি সেখানে গিয়ে আনুমানিক ৭ দিন বয়সী এক নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালে শিশুটির হাতে হাসপাতালের ব্যবহৃত কেনোলা লাগানো ছিল বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকারী কাওছার আহমেদ দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর (নোয়াগাঁও) গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে। উদ্ধার করার পর তিনি শিশুটিকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর থেকে তিনি ও তার স্ত্রী হাসপাতালেই অবস্থান করে শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় নবজাতক শিশুটির শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। শিশুটিকে সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উপযুক্ত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। এ লক্ষ্যে একাধিক ব্যক্তি আবেদনও করেছিলেন এবং সেসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান ছিল।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান জানান, শিশুটিকে গ্রহণের জন্য কয়েকজন আবেদন করেছিলেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই চলছিল। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুসরাত আরেফিন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে কাওছার আহমেদ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হয়।

কর্তৃপক্ষের দাবি, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাওছার আহমেদ তার স্ত্রীর সহযোগিতায় নবজাতককে হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে গেছেন। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া তিনি যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেখানে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চাটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম চালিয়ে চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যে ব্যক্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই পরে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধ ঘোষণা, কর্মহীন ৩০০ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধ ঘোষণা, কর্মহীন ৩০০ শ্রমিক
সংগৃহীত ছবি

ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল সংকট ও এলসি সংকটের কারণে বরিশাল অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন। 

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওই সব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে।’ 

চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি
সংগৃহীত ছবি

যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। চাঁদা না পেয়ে এমন হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবার। 

বুধবার (১০ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে ব্যবসায়ী জামির হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ। ব্যবসায়ী জামির হোসেন (৫৫) একই গ্রামের মৃত কুটি মিয়ার ছেলে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্য ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনে জামির হোসেনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বুধবার রাত ৯টার দিকে কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জামির হোসেনের বাড়ি লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি করে। পরে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আরো দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় পিস্তলে ব্যবহৃত দুই রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামির হোসেন কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের অপর এক সদস্য জানান, দাবি করা চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, উদ্ধার করা দুই রাউন্ড গুলির খোসা প্রাথমিক তদন্তে দেশীয় পিস্তলের বলে মনে হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।     

নেত্রকোনায় জাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় জাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরীফ হোসেন।

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতন, অর্থ আদায় এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৮টার দিকে পূর্বধলা উপজেলার সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে দিবাগত রাত ১২টার পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ভুক্তভোগী মো. শরীফ হোসেন (২০) নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

শরীফ হোসেন জানান, ইজি বাইকে করে পূর্বধলা সদরের দিকে যাওয়ার সময় ত্রিমোহনী সেতু অতিক্রম করে শালদিঘা এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার পথরোধ করেন। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাদক কারবারির অভিযোগ তুলে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্তা করা হয়। কিছুক্ষণ পর আরো একজন সেখানে যোগ দেন।

তার অভিযোগ, তিনজন মিলে তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ৫০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত স্মার্টফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং তাকে বলতে বাধ্য করা হয় আমি জুলাইয়ে ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভুল করেছি, শেখ হাসিনাই ভালো ছিল, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

শরীফ বলেন, ঘটনার সময় চারপাশ অন্ধকার থাকায় কাউকে শনাক্ত করতে পারিনি। কারো বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো সন্দেহও নেই। আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। ঘটনার পর থেকে চরম মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিবস্ত্র অবস্থায় শরীফকে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সময় তাকে কান্নারত অবস্থায়ও দেখা যায়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল পূর্বধলা থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।