• ই-পেপার

নবাবগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ

চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

শেরপুর প্রতিনিধি
চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমার ১৭৪ সেন্টিমিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে ভোগাই, মহারশি, সোমেশ্বরি নদীতে পাহাড়ি ঢলের প্লাবন বইছে। দুপুরের পর নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের গাগলাজানি এলাকায় এবং ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া-সন্ধ্যাকুড়া সড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানিতে গড়িয়ে প্রাবহিত হতে দেখা যায়। আকস্মিক এ পাহাড়ি ঢলের স্রোতে মর্ধটিলা ইকোপার্কে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। অনেক বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পড়েছেন।
 
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় জেলার নালিতাবাড়ীতে সাড়ে ১৫ মিলিমিটার এবং সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেসময় চেল্লাখালি নদীর পানি নালিতাবাড়ীর বাতকুচি পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭৪ সেন্টিমিয়ার ওপর দিয়ে ২৩ দশমিক ৬৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। 

অন্যান্য পাহাড়ি নদীগুলোর মধ্যে ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদী ২১ দশমিক ৩৮ মিটার উচ্চতায় এবং শ্রীবরদীতে সোমেশ্বরি নদী ২৩ দশমিক ৬০ মিটার উচ্চতায় এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ভোগাই নদী ১৮ দশমিক ৭৭ মিটার উচ্চতায়  প্রবাহিত হচ্ছিলো।

শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোসা. জিয়াসমীন খাতুন বলেন, ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়েছে। আশাকরছি বৃষ্টি কমে গেলে এবং উজানের ঢল না আসলে পানি কমে যাবে। আমরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ করছি।

শূন্য রেখায় ২৪ ঘণ্টা, অবশেষে পরিবারে ফিরলেন সেই বৃদ্ধ

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর
শূন্য রেখায় ২৪ ঘণ্টা, অবশেষে পরিবারে ফিরলেন সেই বৃদ্ধ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ, বাধা দেয় বিজিবি। বুধবার সকালে উপজেলার ধানুয়াকামালপুর সীমান্তে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। ৬৮ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের ছিল মানসিক সমস্যাও। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজেছেন নানা জায়গায়। এর পরই আসে আলোচনার ঝড় তোলা সেই ঘটনাটি। দুই দেশের শূন্য রেখায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছেন ষষ্টি। বিষয়টি নজরে আসে পরিবারের সদস্যদের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন। 

শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফিরেছেন ষষ্টি চন্দ্র। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই অবসান হয়েছে শাসরুদ্ধকর ২৪ ঘণ্টা ও পরবর্তী অনিশ্চয়তার। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে থানায় এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা। 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানায় আসেন বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্রের স্বজনরা। সেখানে তাদের সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের। উল্লেখিত তথ্য এ প্রতিবেদককে তারাই জানান। এ সময় ষষ্টি চন্দ্রের মেয়ে জামাই গৌরী বর্মন বলেন, 'আমার শ্বশুর তার বাড়ি থেকে দুই মাস আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। গতকাল (বুধবার) আমরা ভিডিও দেখে শ্বশুরের পরিচয় নিশ্চিত হই। পরে থানা থেকে তাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। আমার শ্বশুরের মাথায় একটু সমস্যা রয়েছে।' 

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, 'বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্রের স্বজনরা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় আসেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে (ষষ্টি চন্দ্র) পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে এই সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন, সে বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু বলতে পারেননি।'

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কয়েকজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করে। তার মধ্যে শূন্যরেখায় আটকা পড়েন বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। 

বুধবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে আলো নিভিয়ে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে ষষ্টিকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় ওই বৈঠক।

এদিকে, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের বাধা পেয়ে অন্যরা সরে গেলেও আটকা পড়েন বৃদ্ধ ষষ্টি। পরে ওই বৃদ্ধ ভারতে ফিরে যেতে চাইলে বিএসএফ সদস্যরা তাতে বাধা দেন। বাংলাদেশেও তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এতে তিনি দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসংলগ্ন ও বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছিলেন ষষ্টি চন্দ্র। পরে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

চসিক মেয়র

রাজনৈতিক প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক খাল বিলীন হয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
রাজনৈতিক প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক খাল বিলীন হয়ে গেছে
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের অনেক খাল রাজনৈতিক প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত কিংবা বিলীন হয়ে গেছে। খাল দখল ও নদী দখলের সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে। যারা খাল দখল করেছেন, তাদের ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নগরের বৃহত্তর স্বার্থে দখল ছেড়ে দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে নগরীর ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের ওয়াইজার পাড়া এলাকায় বির্জা খালের ডাইভারশন ও সেকেন্ডারি অংশ, কৃষি খাল ও সুরভি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে আমরা নগরীর খালগুলো পরিষ্কার ও খননের কাজ জোরদার করেছি। কোথাও যাতে বৃষ্টির পানি আটকে না থাকে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। আজকের কার্যক্রম তারই অংশ। 

মেয়র বলেন, খালগুলোতে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, অবৈধ স্থাপনা এবং দখলের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নাগরিকদের অসচেতন আচরণের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না।

আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, আনোয়ারা
আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আব্দুল হান্নান শাহ্ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার বৈয়াগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামের শাহ্ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল হান্নান শাহ্ (২২) আনোয়ারা উপজেলার ১নং বৈয়াগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামের আব্দুল গফ্ফার শাহের ছেলে। হান্নান আনোয়ারা সরকারি কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পিতা আব্দুল গফ্ফার শাহ্। 


নিহত আব্দুল হান্নান শাহ্ এর ফুফাতো ভাই সাংবাদিক এমরান হোসেন বলেন, ‘হান্নান তার চাচাতো ভাইয়ের দোকানে থাকত। পরীক্ষা উপলক্ষে ছুটি নিয়েছে। আজ পরীক্ষা না থাকায় সকালে সুপারি গাছ কাটতে গিয়েছিল। সেখানেই সুপারি গাছ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে বিদ্যুতায়িত হয় সে। এ সময় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।’

এ বিষয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বৈদ্যুতায়িত হওয়া এক যুবককে আনা হলে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর হান্নানের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।