• ই-পেপার

কুষ্টিয়ায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি

পটিয়ায় ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৩

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৩
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে’ দেশীয় অস্ত্রসহ তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আরো ১০-১২ জন পালিয়ে যায়।

শনিবার (৬ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব মনসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, একটি লেগুনা গাড়িতে অবস্থান নিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক এবং ওসি (তদন্ত) যুযুসু যশ চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন জেলার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার মো. মামুন (২৫), তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত (২১) এবং বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা এলাকার ইসকান্দর (৩২)।

পুলিশ জানায়, আটকদের ব্যবহৃত লেগুনা গাড়িটি তল্লাশি করে একটি সুইচ চাকু, একটি ধারালো অস্ত্র, একটি কাটার, একটি স্টিলের চাকু, একটি দা ও একটি রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের অভিযানে ডাকাত দলের সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়।

এ ঘটনায় রবিবার (৭ জুন) পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পটিয়া থানা পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।’

কক্সবাজারে ছেলের গুলিতে আহত বাবার মৃত্যু

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারে ছেলের গুলিতে আহত বাবার মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের রামুতে ছেলের গুলিতে আহত বৃদ্ধ বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আয়াছ মিয়া (৬৫)। তিনি রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার বাসিন্দা আমিন মোহাম্মদের ছেলে। অভিযুক্ত তার বড় ছেলে জুবাইর উদ্দীন (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জুবায়ের উদ্দীন বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে আয়াছ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আয়াছ মিয়াকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আরো পড়ুন
মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে গুলি চালিয়ে টাকার ব্যগ ছিনতাই

মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে গুলি চালিয়ে টাকার ব্যগ ছিনতাই

 

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, আয়াছ মিয়া ছেলেকে মাদকাসক্তি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গ ত্যাগ করার জন্য নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। 

হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সুমনাথ বসু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ভালুকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৯

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৯
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (৭ জুন) বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের ফরহাদ হোসেন (২৮), ভান্ডাব গ্রামের নাজিম উদ্দিন (২৫), সাইফুল ইসলাম (৪৫), নয়নপুর গ্রামের মেহেদী হাসান আলাল (৩২), কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের ইকবাল তালুকদার (৩০), উথুরা ইউনিয়নের নারঙ্গী গ্রামের রণি ঘোষ (৩৪), ভালুকা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইমন শেখ (২৮), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক হাসান মণ্ডল (৩৮) এবং হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ছোট কাশর গ্রামের মনির হোসেন (৩৪)।

এর আগে শনিবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আফসানুল ইসলাম খান রাফির নেতৃত্বে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ি এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে একই দিন বিকেলে ভালুকা উপজেলা ছাত্রদল স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফেনীতে মারধরের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে মারধরের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ফেনীতে মারধরের শিকার মো. জসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) ভোর পৌনে ৪টার দিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।

নিহত জসিম উদ্দিন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনকেলী গ্রামের মৃত তমছির আলীর ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) রাত ১১টার দিকে শহরের বড় মসজিদ এলাকা থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আহত অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই এলাকায় তাকে মারধর করা হয়েছিল।

পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন
গাইবান্ধায় মদপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ জন

গাইবান্ধায় মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ জন

 

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা বলেন, আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা লোকজনের পরিচয় জানা যায়নি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে। শনিবার রাতে শহরের বড় মসজিদ এলাকায় তার সঙ্গে হাতাহাতি ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। তবে এটি গণপিটুনির ঘটনা নয়। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে আমরা জেনেছি।

তিনি আরো জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।