• ই-পেপার

ফেনীতে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাস খাদে
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার পাঘাচং স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে গেলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রেলওয়ে পুলিশ ও ট্রেনের যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্ত নগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর অনতিদূরে অবৈধ লেভেলক্রসিংটি অতিক্রম করছিল একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস। এ সময় মাইক্রোবাসটি রেললাইনে আটকে যায়। ট্রেন আসতে দেখে এর চালক ও যাত্রীরা নেমে যান। তবে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে খাদে গিয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, দুর্ঘটনা খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি খাদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, তীরজুড়ে ভাঙন আতঙ্ক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, তীরজুড়ে ভাঙন আতঙ্ক
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। নদীতীরবর্তী এলাকায় বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২০ দিন আগে থেকে যমুনার পানি বাড়তে শুরু করে। ঈদুল আজহার পর থেকে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে যমুনার পূর্বপাড়ে চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, চরবিনানুই, কাঁঠালিয়া ও হিজুলিয়া এবং ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর ও ধীতপুর এলাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির মালিকরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। একই সঙ্গে চরাঞ্চলের কৃষকরাও আবাদি জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করলেও মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজিপুর পয়েন্টে নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় পানি ২৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘জুন, জুলাই ও আগস্ট বর্ষা মৌসুম হওয়ায় এ সময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক। ফলে চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো ধীরে ধীরে প্লাবিত হচ্ছে। তবে বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।’

নদীভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া খাসকাউলিয়াসহ দুইটি স্থানের বাঁধে ভাঙন দেওয়ায় সেখানে ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু কিছু স্থানে বাঁধ নেই, কিন্তু নদীতীর ভাঙছে। এসব এলাকা সমূহে বাজেট স্বল্পতার কারণে এখনই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

নাফ নদে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
নাফ নদে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি

কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী নাফ নদে সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি হয়েছে। এ সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৩টায় উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিজিবি জানায়, বুধবার দুপুর ২টার দিকে বাহারপাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদের শূন্যরেখার কাছে মায়ানমার থেকে জেলের বেশে নৌকায় কয়েকজন অস্ত্রধারী সশস্ত্র ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় টহলরত ৬৪ বিজিবির একটি বিশেষ দল দ্রুত নাফ নদসংলগ্ন বেড়িবাঁধে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র গ্রুপটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে সশস্ত্র ব্যক্তিরাও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে তারা তাদের ব্যবহৃত নৌকা ফেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মায়ানমারের ভেতরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিজিবির টহল দল নৌকাটি জব্দ করে তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একটি জি-থ্রি রাইফেল, তিনটি জি-থ্রি খালি ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার খালি ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড গুলি, ৪ হাজার পিস ইয়াবা, একটি জি-থ্রি পাউচসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাব্যিক চর এলাকায় জেলের বেশধারী দুই রোহিঙ্গার কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত একই সশস্ত্র দল পালংখালীর এ ঘটনাতেও অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির জনবল মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ জনতা এবং জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তে সন্ত্রাস দমনে সব সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।

সিংড়ায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সিংড়ায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার নিংগইন ডুবন্ত ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এ সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চলনবিলে নতুন পানি প্রবেশ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু অসাধু ব্যক্তি মা মাছ ও পোনা মাছ নিধনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে বর্ষার শুরু থেকেই প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। চলনবিলের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’