নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলা দায়েরে শিশুটির পরিবারের আপত্তি থাকায় আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়া। তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কাউছার আহমেদ ও আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার জহিরুল ইসলাম ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শিশু রিজিকের বাবা জহিরুল ইসলাম ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একসঙ্গে থাকেন। শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটুক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি চলে আসছিল।
গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন। তিনি ওয়াশরুমে গেল চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও ধারন চালু করে যান। বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ দাদা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চাপ দেন। পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন। এ রআগেই সাইফা বেগম ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের দাবি পা ভাঙেনি, তবে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় আজ বুধবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় তিনজনকে আসামি করে শিশু আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা সাইফা আক্তার জানান, এটি পারিবারিক বিষয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তাদের ছেলে রিজিক সুস্থ রয়েছে, তাই তাদের কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তবে ভিডিওগুলো ফেসবুকে মনগড়া তথ্য দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
মামলার বাদী রিজা আক্তার বলেন, কিছু কিছু বিষয়টি পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তি হয় না। শিশু নির্যাতনের ভিডিওটি সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় আমিসহ আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয় বিদারক নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ভুক্তভোগী বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এ ঘটনায় আজ বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তিনজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেছি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ২০১৩ সালের শিশু আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।