বছর শেষে ফিরেছে ১৬ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনেই শহীদ হন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। নিজের ক্যাম্পাসে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন মোড় নেয়, রূপ নেয় গণ-অভ্যুত্থানে। ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
এদিকে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলা হয় আট মাস পর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির তখনকার রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশীদ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক, একাধিক কর্মচারী, আট পুলিশ সদস্য, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে এ মামলায় এখনো অভিযোগপত্র জমা পড়েনি আদালতে।
১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের বন্দুকের সামনে যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সমর্থকদের হামলায় ওই দিন আবু সাঈদ, ওয়াসিমের পাশাপাশি সারা দেশে শহীদ হন ছয়জন। আন্দোলনে শহীদ অন্য চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং বাকিরা চট্টগ্রামের।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা
বেরোবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদের করা মামলটি এখনো চলমান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার উপপরিদর্শক রাশেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। সিদ্ধান্ত হলেই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। অধিকাংশ আসামি আত্মগোপনে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্নের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া
এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযোগপত্র জমা না হওয়া, অনেক আসামির গ্রেপ্তার না হওয়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী শামসুর রহমান বলেন, যারা আমাদের ওপর হামলা করল, তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরতদের সাময়িক বরখাস্ত করেই ক্ষ্যান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমরা চাই দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল। যারা অপরাধী তাদের দ্রুত বিচার হোক।
বেরোবি প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করেছে। মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত যারা আসামি, আইন অনুযায়ী তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দিলে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবু সাঈদকে নিয়ে বেরোবির আয়োজন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের দিনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ছিল কবর জিয়ারত, সাড়ে ৯টায় ক্যাম্পাসে শোক র্যালি, সোয়া ১০টায় আবু সাঈদ চত্বরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, এরপর বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ছিল বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।




