কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে খুলনায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পাট গুদাম ও বেলিং শ্রমিকরা।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দৌলতপুর এলাকা বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বন্ধ হয়ে যায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল।
শ্রমিকরা প্রথমে রেলগেট মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা মহসিন মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ গড়ে তোলেন। এতে যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। দাবি আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। প্রয়োজনে রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।
এদিকে, শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও রয়েছে।
বিক্ষোভরত শ্রমিকরা বলেন, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর ‘অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই পাট খাতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জুট প্রেস ও বেলিং শিল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অনেক পরিবার না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত রপ্তানি কার্যক্রম চালু এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।




