• ই-পেপার

মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় গ্রেপ্তার ৪

খুলনায় পাট শ্রমিকদের দ্বিতীয় দিনের অবরোধ

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বকেয়া বেতন দাবি

খুলনা অফিস
খুলনায় পাট শ্রমিকদের দ্বিতীয় দিনের অবরোধ
কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে বুধবার খুলনার দৌলতপুরের মহসিন মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। ছবি: কালের কণ্ঠ

কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে খুলনায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পাট গুদাম ও বেলিং শ্রমিকরা। 

বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দৌলতপুর এলাকা বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বন্ধ হয়ে যায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল।

শ্রমিকরা প্রথমে রেলগেট মোড় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা মহসিন মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ গড়ে তোলেন। এতে যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। দাবি আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। প্রয়োজনে রেলপথ ও নৌপথ অবরোধের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

এদিকে, শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও রয়েছে।

বিক্ষোভরত শ্রমিকরা বলেন, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর ‘অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই পাট খাতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জুট প্রেস ও বেলিং শিল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অনেক পরিবার না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত রপ্তানি কার্যক্রম চালু এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ঈদে ৮ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ঈদে ৮ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি ও সিএন্ডএফ বিষয়ক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বুধবার (২০ মে) সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি সই করা এক পত্রে বিষয়টি জানানো হয়েছে। 

ওই পত্রে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও সিএন্ডএফ বিষয়ক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ৩ জুন থেকে বন্দরেরর সকল কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।

এতে বলা হয়, সোনামসজিদ স্থল বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন
দপ্তরির চাকরি না পেয়ে স্কুলমাঠে পাটচাষ!

দপ্তরির চাকরি না পেয়ে স্কুলমাঠে পাটচাষ!

 

পত্রে আরো বলা হয়, বন্ধের সময় সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পথে দুদেশে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত ঈদের দিনসহ প্রতিদিনই চালু থাকবে।

বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বন্ধের মধ্যে লোড-আনলোড, গুদামজাতকরণ, পরিবহনসহ কিছু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু থাকবে।  

দপ্তরির চাকরি না পেয়ে স্কুলমাঠে পাটচাষ!

অনলাইন ডেস্ক
দপ্তরির চাকরি না পেয়ে স্কুলমাঠে পাটচাষ!
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীতে দপ্তরির চাকরি না পেয়ে স্কুল মাঠেই পাটচাষের অভিযোগ উঠেছে সজিব খাঁন ও তার বাবা কালাম খাঁন। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মুরারীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্কুলের মাঠে পাটচাষ করায় নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা জানায়, এ স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ১৪২ জন। স্কুলমাঠে পাটক্ষেত থাকায় খেলাধুলা করতে তাদের সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত স্কুলের মাঠ থেকে পাট ক্ষেত অপসারণের দাবি জানিয়েছে তারা।

সজিব খাঁন ও তার বাবা কালাম খাঁন জানান, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সজিবকে স্কুলের দপ্তরির চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। যে কারণে তারা তাদের জমিতে পাটের আবাদ করেছেন।

সজিব বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে আমাদের জমিতে পাট চাষ করেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকরি দিক, নাহলে আমাদের জমির টাকা দিক, নইলে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দিক। যাতে আমরা আমাদের জমিতে ভালোভাবে চাষাবাদ চালাতে পারি।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার খানম জানান, তৎকালীন এমপি জিল্লুল হাকিম কালাম খানের কাছ থেকে স্কুলের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করার জন্য জমি নিয়ে দেন। কথা ছিল, সজিবকে চাকরি দেওয়ার পর জমি রেজিস্ট্রি করার। তবে ৫ আগস্ট দেশের প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় সেটি আর সম্ভব হয়নি। যে কারণে সজিব ও তার বাবা তাদের জমিতে পাটের আবাদ করেছেন।

স্কুলের মাঠে পাট দিন দিন বড় হচ্ছে জানিয়ে কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

চাটমোহরে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
চাটমোহরে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

শপাবনার চাটমোহরে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কামালপুর কুমারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত বৃদ্ধের নাম আব্দুল জলিল (৬০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত. মিয়াজান প্রামানিকের ছেলে। ভুক্তভোগী ওই শিশু স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় রাতেই ধর্ষণের শিকার ওই শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই শিশুকে তার মা বাড়ির অদূরের দোকান থেকে কয়েল আনতে পাঠায়। এসময় সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা আব্দুল জলিল শিশুটিকে খাবার জিনিসের লোভ দেখিয়ে তার ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে। পরে শিশুটি ঘর ঝাড়ু দিতে গেলে পেছন থেকে জাপটে ধরে এবং মুখ চেপে ধরে ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন আব্দুল জলিল। এসময় ওই বাড়িতে কেউ ছিল না।

এর পর ওই শিশুটি দোকানে না গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে যায় এবং তার পরিবারকে ঘটনাটি খুলে বলে। রাতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েল করেন। এদিকে ঘটনার পর এলাকা থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জলিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বুধবার পাবনা ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুল জলিল পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান ওসি।