• ই-পেপার

বৃটিশমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বৈঠক

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ১৮ আসামির মধ্যে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড, নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পৃথক অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন
দেশকে ‘বেচে’ দিয়ে গেছেন ড. ইউনূস

দেশকে ‘বেচে’ দিয়ে গেছেন ড. ইউনূস

 

রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ৫ম আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম চৌধুরী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি দল ডাকাতি দমনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সেনাবাহিনীর ৩৯ এসটি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন ডাকাতদের ধাওয়া করতে গিয়ে দুই ডাকাতকে জাপটে ধরেন।

আরো পড়ুন
গরমে মাথার ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

গরমে মাথার ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

 

এ সময় ডাকাতরা তার ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রথমে ১৭ জনের নামে মামলা দায়ের করা হলেও তদন্তে ছয়জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়। পরে এজাহারের বাইরে থাকা আরও সাতজনের নাম উঠে আসে। সব মিলিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। এ সময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতকে আটক করে এবং তাদের ফেলে যাওয়া একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

মোংলায় সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা প্রদানের অভিযোগ, স্থানীয়দের বিক্ষোভ

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা প্রদানের অভিযোগ, স্থানীয়দের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মোংলায় কাপালিরমেঠসহ সাত গ্রামের ১০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা প্রদানের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে গ্রামবাসী। রাস্তা নির্মাণে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাধা সৃষ্টির প্রতিবাদে বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কাপালিরমেঠ এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ভুক্তভোগী শতাধিক নারী-পুরুষ।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে সরকারি এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছি। এ রাস্তা দিয়ে সাতটি গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তাটি যেই পাকা করার কাজ শুরু হয়েছে সেই তাতে বাধা দিয়েছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। আমরা বাধা সৃষ্টিকারী প্রভাবশালী ব্যক্তির বিচার চাই এবং দ্রুত পাকা রাস্তা নির্মাণ চাই।

তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সব দপ্তরে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে কোনো দপ্তরের অভিযোগই কার্যকর হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, ‘ওখানে খাস জমি নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন জেলে ইসমাইল, ভারত থেকে ফিরল মরদেহ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন জেলে ইসমাইল, ভারত থেকে ফিরল মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পূর্ণভবা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. ইসমাইল হকের (৬৫) মরদেহ দীর্ঘ ১৯ দিন পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছে। বুধবার (২০ মে) হিলি চেকপোস্ট সীমান্ত দিয়ে মরদেহটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে কামদেবপুর চান্দামারী পুরানঘাট এলাকায় পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে যান ইসমাইল হক। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তার খোঁজ পায়নি। এরপর গত ৩ মে ভারতের গঙ্গারামপুর থানার যাদববাটি বাটুলপাড়া নদীর ঘাট এলাকায় একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ। পরে মরদেহের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন, সেটি ইসমাইল হকের মরদেহ। মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ শুরু করেন। তবে কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘ ১৯ দিন অপেক্ষা করতে হয় পরিবারটিকে।

নিহতের বড় ছেলে হায়দার আলী জানান, প্রতিদিনই মরদেহ ফেরত আসার আশায় ছিলেন তারা। অবশেষে বুধবার মরদেহ দেশে ফিরেছে।

সূত্র জানায়, কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ বালুরঘাট হয়ে হিলি চেকপোস্ট সীমান্তে আনা হয়।

পরে অতুল কুমার ভট্টাচার্য, ১৫১ ব্যাটালিয়নের কম্পানি কমান্ডার নিশীত লাহা ও  হিলি ইমিগ্রেশনের এসআই আব্দুল তালেবের উপস্থিতিতে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গৌরীপুর

উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস

নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত পদক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস
উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর বলুহা এলাকায় নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা সেতুর সংযোগ সড়ক। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

সেতুর কাজ প্রায় শেষ। সেতুর পর সংযোগ সড়ক হয়েছে। সঙ্গে সুরক্ষা দেয়াল। উদ্বোধনের কথা আগামী ৩০ জুন। এরই মধ্যে ধসে পড়তে শুরু করেছে সংযোগ সড়ক। এ জন্য কাজে অনিয়মকে দায়ী করছে স্থানীয়রা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি সেতু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নের শিবপুর বলুহা এলাকায় সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে বলুহা সড়কের খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। 

নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর কাজ শুরু হয় ২০ জুন। ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। সবশেষ আগামী ৩০ জুন সেতুটি উদ্বোধনের কথা। 

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে যাওয়ায় সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে ইটের সলিংও। সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনীও। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া কার্যাদেশের বিভিন্ন শর্তও মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে সাইট অফিস, লেবার শেড, ইটের খোয়া ভেজানোর পানির চৌবাচ্চা ও শ্রমিকদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনা করায় নির্মাণের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘কাজের শুরু থেকেই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।’

শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষায় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হবে। 

কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এখানে কাজের কোনো সাইনবোর্ড নেই। ড্রাম শিট দিয়ে করা পেলাসাইডিংয়ের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ চলমান অবস্থায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে  কয়েকটি ইট সরে যাচ্ছে। এটা ফের মেরামত করা হবে, সমস্যা নাই।’

গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন বলেন, ‘ভেঙে যাক সমস্যা নাই। এখনও ঠিকাদারের টাকা আটকে আছে। মেরামত করেই টাকা নিতে হবে।’