মাদারীপুরে এক দম্পতি ও তাঁদের শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত রবিবার রাত আড়াইটার দিকে মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকার যতীন শিকদারের ছেলে চিন্ময় শিকদার (২৮), তাঁর স্ত্রী ইশা শিকদার ওরফে ইশরাত জাহান (২২) এবং তাঁদের আট মাস বয়সী মেয়ে জেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে চিন্ময় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সৎমা মিষ্টির ভাড়া বাসায় ওঠেন। পরে সন্ধ্যায় মিষ্টি বাজার করতে বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি ফিরে এসে চিন্ময় ও তাঁর স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন। দুই ঘণ্টার বেশি সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। রাত ২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় চিন্ময় ও তাঁর শিশুকন্যাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তাঁর স্ত্রী ইশাকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা প্রাথমিকভাবে রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। প্রথমে চিন্ময় তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেন। কারণ চিন্ময় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে খুবই ডিপ্রেশনে ছিল। তাঁর ফোনে আমরা কিছু কনভারসেশন দেখেছি। তাঁর স্ত্রীর পেছনে চিন্ময় ১৪ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তারপর তাঁর স্ত্রী আইসিইউতেও ছিলেন। চিন্ময় কিছুই করতেন না। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়েই তিনি সংসার চালাতেন।
তিনি আরো বলেন, মিষ্টির সংসার চালাতে টাকা-পয়সা দরকার হলে তিনি তাঁর স্বামীর বড় ছেলে চিন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। চিন্ময় তাঁর স্ত্রীকে নিয়েই খুব ঝামেলার মধ্যে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জটিল কিছু রোগে ভুগছিলেন। গত বুধবার তাঁরা ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে মাদারীপুরে আসেন। চিন্ময় নিজেও তাঁর বাবা ও ছোট ভাই জয়ের সঙ্গে একটি অপহরণ মামলায় আসামি। তাই তিনি গ্রেপ্তারের ভয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন না।
পুলিশ জানায়, নেত্রকোনার কেন্দুয়া ইউনিয়নের মাসকা গ্রামের এরশাদ মিয়ার মেয়ে ইশরাত জাহানকে প্রেম করে বিয়ে করেন চিন্ময় শিকদার। বিয়ের পর তার নাম রাখা হয় ইশা। দীর্ঘদিন ধরে ইশা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসার পেছনে ১২-১৫ লাখ টাকা খরচ করেন চিন্ময়। ঋণের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে আট মাসের সন্তানকে নিয়ে ফ্যানে রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।