কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তামিম ইকবাল নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিস্তল দেখিয়ে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানায় ভুক্তভোগী ওই পরীক্ষার্থী।
মারধরের শিকার তামিম ইকবাল উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর ইফতেখার আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ঘটনার ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এসএসসি এক পরীক্ষার্থীকে বেদম মারধরের পর কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্য দলবলসহ পিস্তল হাতে পৌর এলাকার শান্তি রোডের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বুধবার দুপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘবদ্ধ একটি দল প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এক পরীক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এ সময় হামলাকারী এক কিশোরের হাতে একটি পিস্তল দেখা গেছে, যা দেখে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে সে তার দলবলসহ পিস্তল হাতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।
নিউ মার্কেটের কালাচান্দ সুপার মার্কেটের গার্মেন্টস কাপড় ব্যবসায়ী মো.সাকিব বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনায় গতকালও এক ছেলেকে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসরা। তাদের প্রায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে যায়। একদিন মহড়ার সময় কয়েকজন নারী ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আমার দোকানে এসে ঢুকে পড়ে। এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বিভিন্ন দলের নামে কিশোর অপরাধ করছে।’
হামলার শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী তামীম ইকবাল কালের কণ্ঠকে বলে, আমি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল কিশোর গ্যাং আমার ওপর হামলা চালায়। তারা প্রথমে এসে আমাকে বলে আমি নাকি তিন মাস আগে ফেসবুকের কোনো একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছি। এই কথা বলেই ওরা আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মাহিন নামে একজনের হাতে একটি পিস্তল ছিল। আমি কোনো রকম জান নিয়ে পালিয়ে এসেছি।’
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। মারধরের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাং সদস্যদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে, কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সে যে-ই হোক।’





