• ই-পেপার

ঝিনাইদহে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ২ জনের, আহত ৪

এমপির নির্দেশনা উপেক্ষিত

পটিয়ায় পুকুর সংস্কারের আড়ালে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় পুকুর সংস্কারের আড়ালে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় পুকুর সংস্কারের অনুমতিকে 'ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব। দিন-রাত সমানতালে স্ক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে পুকুর, ফসলি জমি ও টিলা। প্রশাসনের শর্ত মানা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই চলছে মাটি উত্তোলন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সড়ক-মহাসড়ক আর স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী 'মাটি খেকো সিন্ডিকেট'। তারা রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থবল ও স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। বিষয়টি এখন এলাকাবাসীর কাছে ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ধলঘাট, কেলিশহর, হাইদগাঁও, মোজাফরাবাদ, শোভনদন্ডী, খরনা, বড়লিয়া,  আশিয়া ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নে একযোগে চলছে মাটি কাটার উৎসব। বিশেষ করে পটিয়া সীমান্তের ধলঘাট এলাকার প্রভা স্টোরের পশ্চিম পাশে বীরকন্যা প্রীতিলতা সড়ক ঘেঁষা একটি বড় পুকুরে সংষ্কারের আড়াঁলে ব্যাপকভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন শত শত ট্রিপ মাটি বহনকারী পিকআপ ও ডাম্পার চলাচলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রীতিলতা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনে তো মাটি কাটছেই, এখন রাতেও ঘুমানো যায় না। ভারী গাড়ির শব্দে শিশু ও বৃদ্ধরা অতিষ্ঠ। রাস্তাদর অবস্থা এত খারাপ হয়েছে যে চলাচল করাই কষ্টকর।’

আরেক বাসিন্দা তৃষ্ণা দাশ বলেন, ‘ফসলি জমি কেটে শেষ করে ফেলছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের চাপ আসে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এদিকে, মাটি কাটা কেন্দ্র করে গত ১১ মে বড়লিয়া ইউনিয়নে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা জানান, মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। যে কোন দিন, যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

অপরদিকে, পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছেন এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ক্ষেত্রে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ প্রযোজ্য। কৃষিজমি বা পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে কেলিশহর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পুকুর সংস্কারের জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে মাটি বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে রবিবার দুপুরে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে যদি শর্ত ভঙ্গের আলামত পাওয়া যায় তখন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় বা কারাদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।’

সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, ‘মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তবে আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।’

পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘পটিয়ায় মাটিকাটা কিছু দিন কমে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারো বেপরোয়া হয়েছে উঠেছে মাটি খেকোরা। খবর পেলে আমরা ঘটনাস্থলে টিম পাঠাচ্ছি। কিন্তু তার আগেই ঘটনাস্থল থেকেই তারা সটকে পড়ে।’ 

তবে স্থানীয়দের দাবি শুধু নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ চান না, প্রয়োজন দৃশ্যমান অভিযান ও কঠোর শাস্তির। অন্যথায় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, নাকি পুকুর সংস্কারের আড়ালে চলতেই থাকবে মাটি বিক্রির এই অঘোষিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম।  

শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত মরদেহ মিলর জামাই'র

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত মরদেহ মিলর জামাই'র
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের মহিশ্বরন গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আলাল উদ্দিন (৫৩) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৮মে) বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

আলাল উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আরশেদ আলীর পুত্র।

স্থানীয়,পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, আলাল উদ্দিন প্রথম স্ত্রীকে রেখেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি গাজীপুরে বসবাস করেন। সেখানেই দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত রবিবার রাতে তিনি শ্বশুড়বাড়ি আসেন। রাতে ভিন্ন একটি ঘরে ঘুমাতে যান। এ অবস্থায় আজ সোমবার সকাল পেড়িয়ে দুপুর হলেও কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় সম্বন্ধি(স্ত্রীর বড় ভাই) সাইফুল ইসলাম সেকুল বারবার ডেকেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে দেখতে পান আঁড়ার সাথে গলায় একটি ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছেন। খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

গৌরীপুর থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম জানান,ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। রহস্য উদঘাটনে ময়না তদন্তের জন্য আগামিকাল লাশ মর্গে পাঠানো হবে।

সুন্দরবনে গুলিতে জেলের মৃত্যু, মরদেহ নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয় ভাঙচুর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে গুলিতে জেলের মৃত্যু, মরদেহ নিয়ে বন বিভাগের কার্যালয় ভাঙচুর
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনে বনবিভাগের সদস্যদের গুলিতে নিহত জেলে আমিনুর রহমান গাজীর মরদেহ নিয়ে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে হামলা চালায়  বিক্ষুব্ধ জনতা । এতে অন্তত ৫ জন বনকর্মী আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মে) বিকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, বনকর্মী তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে নিহত জেলে আমিনুরের লাশ নিয়ে শত শত মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস এবং বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হামলা চালায়। এসময় তারা বনবিভাগের কর্মীদের খুঁজে খুঁজে মারধর করে এবং বনবিভাগের ভবন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এসময় বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আহত বনকর্মীদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বনবিভাগের অফিসের সামনেই নিহত জেলে আমিনুরের মরদেহ রাখা ছিল। কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ও শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, তারা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইতোমধ্যে তাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের অফিস ও অফিসের ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। আমিনুরের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমিনুরের মৃত্যুর বিষয়টি সাতক্ষীরা রেঞ্জে ঘটেনি। এটা ঘটেছে খুলনা রেঞ্জে।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে সুন্দরবনে বনবিভাগের সদস্যদের গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নামে এক জেলে নিহত হন। সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোস্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। দুপুর দেড়টার দিতে আমিনুরের মরদেহ নিয়ে লোকালয়ে ফেরেন তার সহকর্মীরা। এর পরপরই স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। 

ব্রাহ্মণপাড়ায় জেলের জালে উঠে এলো মর্টার শেল

বুড়িচং -ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণপাড়ায় জেলের জালে উঠে এলো মর্টার শেল
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মাছ ধরার সময় জেলের জালে উঠে এসেছে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের একটি ফিশারিতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ শশীদল গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ফিশারিতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। জাল টানার সময় তিনি ভারী কোনো বস্তু আটকে থাকার বিষয়টি টের পান। পরে জাল ওপরে তুলে তিনি ধাতব আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পান। সেটি মর্টার শেল বলে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টার শেলটি উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিজিবি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। 

স্থানীয়দের ধারণা, মর্টার শেলটি অনেক পুরোনো এবং দীর্ঘদিন পানির নিচে পড়ে ছিল।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘শশীদল এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলের জালে একটি পুরোনো মর্টার শেল উঠে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিরাপদে উদ্ধার করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ইউনিটকে জানানো হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’