• ই-পেপার

শিবচরে সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি চুরির অভিযোগ, অতঃপর...

টেন ইলেভেন-লেদার ইতালিয়ানের পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
টেন ইলেভেন-লেদার ইতালিয়ানের পুরস্কার বিতরণ
ময়মনসিংহে টেন ইলেভেন ও লেদার ইতালিয়ানের পুরস্কার বিতরণ।

ময়মনসিংহ নগরীতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে টেন ইলেভেন ও লেদার ইতালিয়ানের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। শনিবার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর রাম বাবু রোড এলাকার ‘এস এস নর্থ ভ্যালি’র নিচতলায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ক্রেতাদের হাতে আকর্ষণীয় সব পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি এফজেড মোটরসাইকেল দেওয়া হয়। এ ছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ওয়ালটন ফ্রিজ, তৃতীয় পুরস্কার ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, চতুর্থ পুরস্কার মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে একটি ভিভো স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান অর্জনকারী বিজয়ীদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকার গিফট কার্ড। এমন অভিনব আয়োজন উপস্থিত অতিথি ও ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহের সৃষ্টি করে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টেন ইলেভেন ও লেদার ইতালিয়া তাদের সব ধরনের পণ্যের ওপর বিশেষ ১০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য এই অফারটি বাড়তি আনন্দ ও ঈদ উপহার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানে টেন ইলেভেন ও লেদার ইতালিয়ানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম), সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম), স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিপুলসংখ্যক ক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযান, মদ ও ইয়াবাসহ আটক ৩

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযান, মদ ও ইয়াবাসহ আটক ৩
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী পৃথক চারটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এসব অভিযানে তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার কেরুণতলী এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান চালায়। এসময় একটি সন্দেহজনক সিএনজি তল্লাশি করে ৪৭ ক্যান বিদেশি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত সিএনজি ও একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

এদিকে রবিবার সকালে ও বিকালে টেকনাফের হলবনিয়া ও মাথাভাঙ্গা এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দুটিতে সন্দেহভাজন ইজিবাইক তল্লাশি করে ১২৭ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি ইজিবাইকসহ আরো দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

অপরদিকে একইদিন দুপুরের দিকে সাবরাং নয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি ডিঙি নৌকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা ঝাউবনের দিকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জানান, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য, পাচারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুর্গাপুরে অপহরণের পর শিশুকে হত্যা, লাশ নিয়ে স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
দুর্গাপুরে অপহরণের পর শিশুকে হত্যা, লাশ নিয়ে স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চার বছর বয়সী শিশু হুমায়রা জান্নাতকে অপহরণের পর হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

রবিবার (১৭ মে) দুপুর থেকে উপজেলার হাট কানপাড়া বাজার এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে হাজারো নারী-পুরুষ অংশ নেন। অনেককে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধেও বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীরা নিহত শিশুর মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যান। এতে সড়কে শত শত পণ্যবাহী যানবাহন ও পথচারী আটকা পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাজুখলসী গ্রামের ফার্মেসি ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে হুমায়রা জান্নাত নিখোঁজ হয়। পরে রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।

শনিবার সকালে শিশুটির সন্ধানদাতাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় পরিবার। একই দিন সকালে শিশুটির বাবার মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে শনিবার দুপুরে প্রতিবেশী রাজিবের বাড়ির পাশের একটি খেজুর গাছের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুটির বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমার মেয়েকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি খেজুর গাছের নিচে রেখে যায়। এ বিষয়ে থানা পুলিশকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এমনকি আমার মেয়ের লাশের পোস্টমর্টেমও করতে দেওয়া হয়নি। যতক্ষণ না আমার মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হবে, ততক্ষণ এ বিক্ষোভ চলমান থাকবে।’

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্রমিকের অভাবে রাতেও ধান কাটছে হারভেষ্টার মেশিন

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্রমিকের অভাবে রাতেও ধান কাটছে হারভেষ্টার মেশিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে রাতেও হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটছে কৃষককরা। ছবি: কালের কণ্ঠ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও হারভেস্টার মেশিনের সংকট থাকায় ধান কাটতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে। এতে ধান কাটায় খরচও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শ্রমিক ও  কম্বাইন্ড হারভেষ্টার মেশিনের অভাবে আজ (১৭ মে) রবিবার রাতেও ধান কাটতে দেখা গেছে। প্রতি কানি (৩৩ শতক) ৫ হাজার টাকায় মেশিনে কাটতে হচ্ছে। অথচ,গত বছর যার মূল্য ছিলো ২৬ শত টাকা।

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষকরা জানিয়েছে , অসময়ে বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে ধান পড়ে যাওয়ায় ফলন কম হয়েছে। পাশাপাশি ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি বেশি। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ও জমিতে পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটাই মাড়াই করাতে দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে।

এছাড়া শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে বিঘায় একবস্তা ধান বেশি ও খড় শতভাগ পাওয়া যায়। অপরদিকে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কারণে একবস্তা ধান কম পাওয়া যায় ও খড় নষ্ট হয়ে যায় বলেও জানান তারা।

উপজেলার উজানচর গ্রামের কৃষক ছালে মুছা বলেন, ‘এবার ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। সংকটের মধ্যে খুব কষ্ট করে শ্রমিক সংগ্রহ করলেও একর প্রতি ২০ হাজার টাকায় বাধ্য হয়ে ধান কাটতে দেওয়া হয়েছে। না হলে পাকা ধান ঝরে পড়ছে। হারভেস্টারেও একই খরচ।’

হোগলাকান্দি গ্রামের কৃষক রফিকুল  ইসলাম বলেন, ‘গতবার হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধানকাটতে নিয়েছিল একর প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এবার তা দিতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। কৃষি শ্রমিক ও হারভেস্টারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।’

বুধাইরকান্দি গ্রামের কৃষক রহমান মিয়া বলেন, খরচ বেড়েছে। ধানও ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে এই খরচ বেড়ে যাওয়ায় জমি চুক্তি নিয়ে যারা ধান চাষ করেছেন, তারা লোকসানে পড়েছেন। প্রকৃত জমির মালিকরা লাভবান হচ্ছে।

হারভেষ্টার মেশিনের একাধিক  মালিকরা জানান, সরকারের ভর্তুকির দিয়ে হারভেস্টার মেশিন পুরাতন হয়ে যাওয়ায় প্রায় সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও দাম বেশি। তেলের দাম বেড়েছে। মেশিনর সঙ্গে থাকা শ্রমিকের দাম বেশি, আবার পানি থাকায় চালক ছাড়াও একজনের জায়গায় দুইজন শ্রমিক নিতে হচ্ছে। এমন বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়েছে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মুটামুটি অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটাই মাড়াই ব্যাহত হচ্ছে।  তিনি আরো  বলেন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোট হারভেস্টারের সংখ্যা ৬৮ টি, এর মাঝে  ৪২ টা সচল আছে, বাকিগুলোর মাঝে কিছু অচল, কিছু সার্ভিসিং এ আছে।

সচল ৪২ টার মাঝে ২৫/৩০ টা বাঞ্ছারামপুরে ধান কর্তন করছে, বাকি গুলো পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে (বিশেষত নবীনগর, হোমনা, মুরাদনগরে) ধান কর্তনে গেছে, তাদের দ্রুত বাঞ্ছারামপুর আসার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিস জানায়, এই বছর উপজেলায় বোরো আবাদ করা হয়েছে ৯ হাজার ৫শত ৫৮ হেক্টর। আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।

চড়া ও বেশী মূল্যে হারভেষ্টার মেশিনে ধান কাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন,‘বিষয়টি আমি কালই সরেজমিনে গিয়ে খতিয়ে দেখবো।’