• ই-পেপার

আশুগঞ্জে ট্রাকচাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

তারেক রহমান কখনো প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দেননি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
তারেক রহমান কখনো প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দেননি : পানিসম্পদ মন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তারেক রহমান কখনো প্রতিহিংসামূলক চিন্তা করেননি, বক্তব্যও দেননি। এদেশের মানুষ তখন থেকেই তার পেছনে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে জাগরণ সৃষ্টি করেছি। নতুনভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। যার কারণে লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনেই জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছে।

শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী এ্যানি চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। এরমধ্যে নির্বাচনের আগে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতি আল্লাহর হুকুমে এবং তারেক রহমানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে আপনাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। নির্বাসিত জীবন থেকে তারেক রহমান আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে সবশেষ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ থেকে শেখ হাসিনা বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে।

আরো পড়ুন
‘যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রুপ করতেন, তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য কার্ড চাচ্ছেন’

‘যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রুপ করতেন, তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য কার্ড চাচ্ছেন’

 

এ্যানি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া তার কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি। মাত্র সাড়ে তিন বছরে বিভাজিত বাংলাদেশ, বিশৃঙ্খল বাংলাদেশকে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাধ্যমে একটা ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার পর অনেক সরকার এসেছে। কিন্তু তারা স্বনির্ভর বাংলাদেশ, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ, মর্যাদার বাংলাদেশ ও সাম্যের বাংলাদেশটাকে ধরে রাখতে পারেননি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপোষহীন ছিলেন। কখনো মাথানত করেননি। তিনি লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, জেলেও গিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা এ বাংলাদেশকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাবউদ্দিন সাবু, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াপ্রু মারমা ও সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ প্রমুখ।

এরআগে চাঁদপুর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১২৫১ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।

ময়মনসিংহে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

‘যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রুপ করতেন, তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য কার্ড চাচ্ছেন’

মংমনসিংহ প্রতিনিধি
‘যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিদ্রুপ করতেন, তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য কার্ড চাচ্ছেন’
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘যারা কার্ড নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন তারাই এখন নিজ নিজ এলাকার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চাচ্ছেন। বর্তমান সরকার সব এলাকাতেই পর্যায়ক্রমে এই কার্ড দিবে। ফ্যামিলি কার্ড একজন নারীর জন্য চালিকাশক্তি হবে। বাড়াবে মনশক্তি। এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটা পথ তৈরি হয়েছে।’

শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে দেশের ২০টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন। সেই অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ সময় তিনি উপস্থিত কার্ডধারীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড দেব। তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৭৩০ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা শুরু হয়েছে। নারীদের আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না। এই টাকা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো কাজ করতে পারবেন।’

এ সময় মন্ত্রী উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই টাকা থেকে আপনারা সঞ্চয় করবেন। আগে যেভাবে চলতেন, এখন মনে করবেন এটা বাড়তি একটা আয়। এই আয় দিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করবেন। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দরিদ্র মানুষদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া। আজ সেই সেই কাজটি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

নান্দাইলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলার চরভেলামারী গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাজু আহমেদ, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ।

আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

যশোরের মনিরামপুরে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলমগীর হোসেন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খোঁজালিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) নিহত আলমগীর গয়েশপুর নিমতলা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোঁজালিপুর গ্রামে মতিয়ার রহমানের নারকেল গাছের ডগায় বসে কাচা বাঁশের লাঠি দিয়ে আম পাড়ছিলেন আলমগীর হোসেন। তখন অসাবধানতাবশত বাঁশের লাঠি পাশের বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগলে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আলমগীরের। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস হোসেন বলেন, আলমগীরের শরীর ওখানেই আটকে ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। পরে তারা এসে দড়ি বেঁধে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনে।

নিহত আলমগীরের স্বজন যুক্তি খাতুন বলেন, আলমগীর আমার ভাসুর। তার এক ছেলে এক মেয়ে। তিনি আম পাড়ার কাজ করেন। আজ সকাল ৭টায় আম পাড় বাড়ি থেকে আসেন। পরে সকাল ১১টার দিকে শুনি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আমার ভাসুর মারা গেছেন।

মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা মো. মাসুম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত এসে লাশ উদ্ধার করেছি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহতের দেহের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।

বাগেরহাটে নজর কাড়ছে এক খামারের ‘অভিন্ন’ ১০ গরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে নজর কাড়ছে এক খামারের ‘অভিন্ন’ ১০ গরু
ছবি: কালের কণ্ঠ

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন একই গরুর সারিবদ্ধ প্রতিচ্ছবি দাঁড়িয়ে আছে। গায়ের রং, শারীরিক গঠন, উচ্চতা—সবকিছুতেই রয়েছে আশ্চর্য মিল। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটে নজর কাড়ছে একই জাত, রং ও আকৃতির ১০টি গরু। 

ব্যতিক্রমী এই খামারটি গড়ে তুলেছেন জেলার ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম। তার ঘনশ্যামপুর গ্রামের খামারে বর্তমানে ফ্রিজিয়ান জাতের ১০টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৬ থেকে ৮ মণের মধ্যে। একই ধরনের গঠন ও রঙের কারণে গরুগুলো দেখতে প্রায় অভিন্ন মনে হয়। আর এই অভিনব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী খামারে ভিড় করছেন।

খামারি শহিদুল ইসলামের ছেলে সাকিব শেখ বলেন, ‘বাবা অনেক খোঁজখবর নিয়ে, দীর্ঘসময় ধরে জেলার বিভিন্ন হাট থেকে বেছে বেছে একই রং ও গড়নের গরুগুলো সংগ্রহ করেছেন। এবারের কোরবানিতে একটি গরু আমাদের পরিবারের জন্য রাখা হবে, বাকি ৯টি বিক্রি করা হবে।’

খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে গরু মোটাতাজাকরণ ও ডেইরি ফার্ম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত বছর তার খামারে ১৪টি গরু ছিল, এবার রয়েছে ১০টি। 

তিনি বলেন, ‘আমার খামারের গরু কখনো হাটে নিতে হয় না। পাইকার ও ব্যাপারীরা সরাসরি খামারে এসেই কিনে নিয়ে যান। একই জাত ও আকৃতির গরু সংগ্রহ করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এটাই আমার খামারের মূল আকর্ষণ।’

ব্যয় ও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি গরু প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে কেনা হয়েছিল। লালন-পালন শেষে এবার ঈদে একেকটি গরু ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

খামারটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো একই রং ও গড়নের গরু আমি আগে কখনো দেখিনি। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন সবকটি একই গরুর হুবহু প্রতিচ্ছবি। ব্যতিক্রমী এই খামারটি সত্যিই সবার দৃষ্টি কাড়ছে।’

ইতিমধ্যেই খামারে আসতে শুরু করেছেন পশুর ব্যাপারীরাও। মো. কামাল হোসেন নামের এক ব্যাপারী বলেন, খামারের গরুগুলোর পরিচর্যা খুব ভালো হওয়ায় এগুলো বেশ স্বাস্থ্যবান ও আকর্ষণীয়। বাজারে একই রং ও গড়নের গরুর আলাদা চাহিদা থাকে। দাম কিছুটা বেশি হলেও মানের কারণে ক্রেতারা এগুলো কিনতে আগ্রহ দেখাবেন।

খামারের কর্মী আল আমিন জানান, বর্তমানে চারজন কর্মচারী খামারে কাজ করছেন। নিয়ম মেনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গরুকে খাবার দেওয়া এবং খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। প্রতিটি গরু দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি খাবার খায়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছাহেব আলী বলেন, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বাগেরহাটে মোট ৭ হাজার ২০৮টি খামারে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এবার জেলায় ষাঁড়, গরু, ছাগল ও ভেড়াসহ মোট ৮৪ হাজার ৯৬৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৭ হাজার ৮৮৯টি। ফলে চাহিদার তুলনায় জেলায় পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত পশু সরবরাহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।