মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জি সংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা প্রায় ৩.২৯ হেক্টরের অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ।
সোমবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত দিনব্যাপী অভিযানে প্রায় এক হাজার পানগাছের চারা উপড়ে ফেলা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া। এ সময় কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বনরক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।
বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পান, লেবু, সুপারিসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের চাষের কারণে প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। এতে বনভূমির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ কারণে বন সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে সরকার অবৈধ দখল ও চাষাবাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনভূমির ওই অংশ দখল করে বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বন আইনের আওতায় অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করা হয়।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে একটি পিওআর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংরক্ষিত বনভূমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ বা কৃষিকাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আরো কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনভূমি দখল প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বনভূমি দখল ও অবৈধ চাষাবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




