<p><span style="font-size: 1.25rem;">মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের মধ্যস্থলের প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র হলো প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো রবিরবাজার। পৃথিমপাশার জমিদার বাড়ির কৃতি সন্তান মৌলভী রবি খাঁ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ ব্যবসাকেন্দ্র কালের পরিক্রমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। প্রায় দুই হাজার দোকান পাটের এই বাজারে রয়েছে রবিরবাজার মসজিদ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, ভূমি অফিস, হাসপাতাল, ব্যাংক বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। </span></p> <p><span style="font-size: 1.25rem;">সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফার্নিচারের দোকান রয়েছে এ বাজারে। এছাড়া পানের আড়ত, ব্যাবসায়িকসহ নানা কারণে সিলেট বিভাগে ব্যাপক পরিচিতি ও গুরুত্ব রয়েছে রবিরবাজারের। সরকার এখান থেকে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও দৃশ্যমান উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র রবিরবাজার। উপজেলা শহর কিংবা পৌর এলাকা না হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ের এ বাজারে প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিত শহরায়নের কারণে জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিচ্ছন্নতা এখন বিড়ম্বনার প্রধান কারণ।</span></p> <p>সরেজমিন রবিরবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকে রবিরবাজার। রবিরবাজারের প্রায় চার কিলোমিটার চতুর্মুখী এলাকাজুড়ে কুলাউড়া-রবিরবাজার-ঝিলেরপার, রবিরবাজার-কর্মধা ইউনিয়ন রোড, রবিরবাজার-টিলাগাঁও সড়কের পাশে একের পর এক দালানকোঠা গড়ে উঠছে অপরিকল্পিতভাবে। এতে মানা হচ্ছে না কোন বিল্ডিং কোডসহ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন।</p> <p>এলজিইডি, সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় রবিরবাজারের সড়কগুলো নির্মাণ হলেও আজও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি। যে কারণে বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতে বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়ক উপচে দোকানকোটায় প্রবেশ করে ড্রেনের নোংরা পানি। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে সড়কে। এতে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বাজারে চলাচলকারী জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাজারের ভেতরে সড়কের উপরে একাধিক স্ট্যান্ডে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও সিএনজি অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সরকারি কাঁচা বাজারে প্রতি বছর ইজারা থেকে কোটি টাকার উপরে রাজস্ব আদায় করে থাকে সরকার। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে কাঁচা বাজারের শেডঘরগুলো আধুনিকায়ন না করা, ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান না থাকার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্থান সংকুলান সহ চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কয়েকটি শেডঘর জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে যা যেকোনো সময় ভেঙে বড় কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।</p> <p>এ ছাড়া বাজারের আশপাশে সরকারিভাবে কোনো ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা না থাকায় মহালদারসহ ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলেন বাজারের দুটি সরকারি পুকুরসহ বিভিন্ন জায়গায়। ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে স্ট্রিট লাইট ও সিসি ক্যামেরা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না যার কারণে রাতের আধারে অপরাধমূলক কার্যক্রম সংগঠিত হয়। বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বহুতল ভবনগুলো নির্মাণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখার কারণে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পায়। অনেকে দোকান ও ভবনের সম্মুখ থেকে পাকা সড়ক পর্যন্ত ঢালাই করে ড্রেন বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। চলতি বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে এইচএসসি পরীক্ষা</p> <p>কেন্দ্র আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ এবং আশেপাশের অনেকের বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। রবির বাজারের বাইপাস সড়কগুলো পাকা করণে যানজট সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।</p> <p>বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, শহরায়নের ফলে রবিরবাজার সহ পৃথিমপাশা গ্রাম ও বিভিন্ন সড়কে ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রুপ নিচ্ছে। রবিরবাজার থেকে টিলাগাঁও সড়কের পাশে থামা গাং পর্যন্ত ও পূর্ব রবিরবাজার থেকে শুকনাছড়া পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সমস্যা নিরসনে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েও কার্যত কোন সমাধান হচ্ছে না।</p> <p>রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মাসুক আহমদ বলেন, ‘কুলাউড়া উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র এই রবিরবাজার। এখানে রবি ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটবার সহ প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। বাজার কমিটির পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বড় ধরনের কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি।’</p> <p>এলজিইডি’র কুলাউড়া উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, ‘পূর্ব রবিরবাজারে জরুরিভাবে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে অন্য একটি প্রকল্পে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা করা হবে।’</p> <p>সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আক্কাছ আলী জানান, কুলাউড়া-রবিরবাজার, রাজাপুর, চাতলা স্থল বন্দর সড়কের কাজ চলমান আছে। ইতিপূর্বে রাজাপুর সেতুর কাজ শেষ হয়ে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। রবিরবাজার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ না থাকায় ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক প্রশস্তকরনের কাজ বাধাগ্রস্ত হয় বিগত সময়ে।</p> <p>কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘রবিরবাজার বৃহৎ একটি ব্যবসা কেন্দ্র। রবিরবাজারের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বৃহৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সমস্যাগুলো নিরসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। বাজারের ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক প্রশস্তকরণ করে যানজট ও জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে।’</p>