• ই-পেপার

সাদিক কায়েমের মেয়র প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই : ছাত্রশিবির

উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন : বাসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন : বাসদ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেছেন, নির্বাচিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব পাস করা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, আলবদর কমান্ডার, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারকে অন্তর্বর্তী সরকার বেকসুর খালাস দিয়েছে। এ সবই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এসব কথা বলেন তারা। সকালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য ও ঢাকা নগর কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন প্রিন্স, রুখশানা আফরোজ আশা, আনোয়ারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু, ইলিয়াস হাসান ইলু প্রমুখ।

সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতার পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার কথা ছিল। কারণ গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে মুক্তিযুদ্ধের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। কিন্তু ক্ষমতাসীন শাসকেরা তা করেনি। বরং তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ’৭১-এর ঘাতক  যুদ্ধাপরাধীরা শুধু টিকে থাকেনি, পত্র পল্লবে বিকশিত হয়ে মহীরুহ রূপ ধারণ করে। যার কারণে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম জীবিত অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। 

বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে কতিপয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, বাহিনী গঠন করে এবং সরাসরি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগকারী সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধী গণহত্যাকারী দলের বিচার ও তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করেনি। বরং শাসক শ্রেণির দুই বৃহৎ দল প্রতিযোগিতা করে কে কত বেশি রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার করবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকেছে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া দলগুলো পালাক্রমে দেশ পরিচালনা করলেও তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।

তিনি বলেন, গত ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে  ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন সীমা ছাড়িয়েছে। 

কথিত তৌহিদী জনতার নামে নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছিল। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত, কথিত ধর্ম অবমাননার নামে ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক নির্বাচনের পরে এখনো চলমান রয়েছে। 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ শাসন করে শাসকশ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত-দুর্বৃত্তায়িত আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতি দেশকে আজ চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দুর্গতি ও দুর্দশার জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী দলসহ সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে : জামায়াত আমির
সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের লড়াই হবে সব অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

আজ শুক্রবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি ভোট দিলেও একটি ভোটার (গণভোট) মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করল। ফলে কোনো পরিবর্তন আসল না। 

সরকার ইতোমধ্যেই সব মৌলিকবিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে বলে দাবি জামায়াত আমিরের। তিনি বলেন, তারা (সরকার) স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছেন না। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সেসব আগের জায়গায় থেকে গেছে। 

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার না দেয়, আমরা চুপ করে বসে থাকব না। সেই অধিকার আদায়ে আমাদের লড়াই চলবে।

সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের ব্যাপারে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সীমান্তে কিছু সমস্যা আছে। দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ, বিজিবির পাশে আমাদের গোটা দেশবাসী আছেন। আমরা সব ধরনের আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে পারব। শুধু প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি দল কিংবা বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

‘বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে’

অনলাইন ডেস্ক
‘বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে’
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর চলাকালে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন সমঝোতা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা প্রকল্পসহ বড় অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা চলছে এবং বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বিনিয়োগ আলোচনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থায় পরিবর্তন আসছে। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

পোস্টে তিনি বাংলাদেশে কর্মরত প্রবাসীদের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে নানা ধরনের প্রচার ও গুজব রয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জামায়াত আমির

আশুরার মূল শিক্ষা—অন্যায়, জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানো

অনলাইন ডেস্ক
আশুরার মূল শিক্ষা—অন্যায়, জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানো
ফাইল ছবি

অন্যায়, জুলুম ও অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানো আশুরার মূল শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলমীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কখনো মাথা নত না করাই এই দিনের বার্তা।

আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, আজ পবিত্র আশুরা। মানব ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র দিন। তবে আশুরা শুধু হযরত হুসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের শাহাদতের কারণেই মহিমান্বিত নয়; বরং এটি মানবজাতির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষণীয় একটি দিন।

জামায়াত আমির বলেন, আশুরার মূল শিক্ষা হলো—অন্যায়, জুলুম ও অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে মাথা তুলে দাঁড়ানো। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা এবং কোনো অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত না করাই এ দিনের অন্যতম বার্তা।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের প্রিয় জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি ও সাহস দান করুন, বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

সাদিক কায়েমের মেয়র প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই : ছাত্রশিবির | কালের কণ্ঠ