<p style="text-align: justify;">বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী। গত কয়েকদিন মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উপজেলা সদরে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল মাত্র এক ঘণ্টা। ফলে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীরা।</p> <p style="text-align: justify;">স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানা গেছে, সারা দেশজুড়ে বিদ্যুতের ঘাটতে চলছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে হঠাৎ করেই এর তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। যার কারণে এ উপজেলায় সাড়ে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র আড়াই মেগাওয়াট। </p> <p style="text-align: justify;">ভুক্তভোগীরা জানান, সাম্প্রতিককালে প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে যদি ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে ১৪-১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।</p> <p style="text-align: justify;">পৌরশহরের হবিবপুর গ্রামের এলাকার বাসিন্দা শাহিনা বেগম বলেন, ‘বিদ্যুতের অসহনীয় যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। দিবারাত্রি সমানতালে লোডশেডিং করা হচ্ছে। ৬-৭ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে আবার ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে চলে যায়। ফলে অবর্ননীয় কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।’</p> <p style="text-align: justify;">হলদিপুর গ্রামের গৃহবধূ স্বপ্না বেগম বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যার কারণে পানির মটর চালানো যায় না। ফলে তীব্র পানি সংকটে পড়তে হয়। এছাড়া ফ্রিজে থাকা জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। বাসাবাড়ির কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এসব কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।’</p> <p style="text-align: justify;">জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী সাগর রায় বলেন, ‘এমনিতেই অতিরিক্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে যদি ঝড় বৃষ্টি হয় তাহলে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ যায়। ফলে অচল হয়ে পড়ে জগন্নাথপুর। ব্যবসায়ও অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’</p> <p style="text-align: justify;">জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘এ উপজেলায় চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া মাত্র আড়াই মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। বরাদ্দ মেগাওয়াট বণ্টনে প্রতি ৬ ঘণ্টা পরপর একেক এলাকায় মাত্র ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের আন্তরিকতার কমতে নেই।’</p>