হত্যা চেষ্টা মামলায় আসামি হয়ে প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আলোচিত কোষাধ্যক্ষ ইমরান মেহেদী হাসান। আত্মগোপন থেকে ফিরে সম্প্রতি তিনি আবারো কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে তিনি অসুস্থতার সনদও যোগাড় করেছেন বলে জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত সোমবার (২২ জুন) কর্মস্থলে যান ইমরান। তবে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অসুস্থতার কাগজপত্র যাচাই করে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমরান মেহেদী নানা কারণে বিতর্কিত ও আলোচিত। ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে মাগুরায় বদলি হন তিনি। তবে আবারো ময়মনসিংহে ফিরতে মরিয়া ওঠেন। এ জন্য আশ্রয় নেন প্রতারণার। তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনার স্বাক্ষর জাল করে নিজের বদলি আবেদনে সুপারিশ হাজির করেন।
ওই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর র্যাবের হাতে আটক হয়ে কারাগারে ছিলেন ইমরান। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো ময়মনসিংহে ফেরার চেষ্টা করতে থাকেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবারো বদলির আদেশ করান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আদেশ করানোর পরও ইমরানের প্রতাণার মামলা থাকায় যোগদান করাতে আপত্তি করেন ওই সময়ের সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খান। পরে ছাইফুল বদলি হলে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্ব নেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ফয়সাল আহমেদ যোগাদানের দিনই ইমরান আবারো যোগ দেন ময়মনসিংহে।
এ নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়কে পোস্টার সাঁটানো হয়, যাতে দাবি করা হয় ইমরান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ফের ময়মনসিংহে যোগ দেন। তবে কালের কণ্ঠের কাছে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ ও ইমরান।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মীর অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ৩০ এপ্রিল একজন সংবাদকর্মীকে মারধর করেন ইমরান মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়। মামলার পর থেকে ইমরান মেহেদী হাসান ছুটি ছাড়াই প্রায় তিন মাস পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকার সময় তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিতির কারণে ইমরানের বেতন বন্ধ করে দেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন। প্রায় তিন মাস পর গত সোমবার (২২ জুন) আবারো কার্যালয়ে যান ইমরান। এ সময় অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসকের সনদ দেখান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইমরান মেহেদী হাসান বলেন, মামলার আসামি হওয়ার জন্য নয়, আমি অসুস্থ ছিলাম বলে কাজে অনুপস্থিত ছিলাম। অসুস্থতার সনদ জমা দিয়েছি। তবে আজ (২৪ মে) পর্যন্ত আমার যোগদান গ্রহণ করেননি সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত)।’ মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে ইমরান বলেন, ‘একটি মামলা হয়েছিল। তবে সেটি বাদীর সঙ্গে মধ্যস্থতা হয়ে গেছে।’
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইরমানের মামলাটি বাদী তুলে নিয়েছেন বলে আমাদের হাতে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি জামিন পাওয়ার কোনো কাগজ আমাদের হাতে আসেনি। তবে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ইমরান একটি মামলার আসামি। তবে মামলার বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে ইমরান কাজে অনুপস্থিত থাকায় তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি কাজে যোগ দিতে চাইছেন। বলছেন অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’




