• ই-পেপার

ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার মৃতের সংখ্যা ভয়াবহ : ট্রাম্প

নিরাপত্তা শঙ্কায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বস্তি দেবে ইরান চুক্তি?

অনলাইন ডেস্ক
নিরাপত্তা শঙ্কায় উপসাগরীয় মিত্রদের স্বস্তি দেবে ইরান চুক্তি?
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ ছাড়া ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্বর্তী এই চুক্তি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক শান্তি চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান উপসাগরীয় দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তিন দিনের আঞ্চলিক সফরের শেষ পর্যায়ে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় পৌঁছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করেছেন।

বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মিত্রদের আশ্বস্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তি তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই করা হবে। আমরা এমন কিছু করব না যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে।’

বাহরাইনে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে এমন একটি স্থায়ী শান্তি চায়, যা অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি বৈঠকে ওমানের প্রস্তাবিত নিরাপদ নৌ-চলাচল করিডোরকে স্বাগত জানান। এই করিডোর হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সহজ করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হওয়ার পর রুবিওর এই সফর ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর এই সমঝোতা হয়।

সফরের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে রুবিও আঞ্চলিক নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে প্রস্তাবিত চুক্তি ইরানের পক্ষে অতিরিক্ত সুবিধাজনক নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন কিছু করব না যা আমাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে।

তবে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।

এ ছাড়া ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতেও দুপক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

জিসিসিভুক্ত দেশগুলো (সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত) যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র। যুদ্ধ চলাকালে তারা বিভিন্নভাবে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করেছে, তবে একই সঙ্গে ইরানি হামলারও শিকার হয়েছে।

ভেনিজুয়েলার কারাকাস বিমানবন্দর বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলার কারাকাস বিমানবন্দর বন্ধ

ভূমিকম্পের কারণে ভেনিজুয়েলা সরকার রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে সব ধরনের বিমান চলাচল ও কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় বিমানবন্দরে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, অগ্রাধিকার হলো ‘জীবন রক্ষা করা’। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

রদ্রিগেজ বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ডোমিনিকান রিপাবলিক, মেক্সিকো ও এল সালভাদরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করবে।

তিনি আরো জানান, যারা তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন, তাদের জন্য হোটেল ও আশ্রয়স্থল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জনসেবার জন্য অপরিহার্য নয়, এমন সব শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

পুনর্গঠনে এক হাজার কোটি ইউরোর চুক্তির আশা ইউক্রেনের

অনলাইন ডেস্ক
পুনর্গঠনে এক হাজার কোটি ইউরোর চুক্তির আশা ইউক্রেনের
সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেন আগামী দুই দিনে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ইউরোরও বেশি মূল্যের ১৬০টির বেশি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকো।

বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের গদানস্ক শহরে অনুষ্ঠিত একটি বড় পুনর্গঠন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

স্ভিরিদেনকো বলেন, সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে ১৬০টিরও বেশি সমঝোতা ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার মোট মূল্য ১০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রথম কিস্তি হিসেবে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী স্ভিরিদেনকো আরও বলেন, এই অর্থ দেশটির পুনর্গঠন কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ইউক্রেন আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করছে। গদানস্কের এই সম্মেলনকে সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাসপোর্ট একটি ‘ভ্রমণ নথি’, নাগরিকত্বের সনদ নয় : ভারত

অনলাইন ডেস্ক
পাসপোর্ট একটি ‘ভ্রমণ নথি’, নাগরিকত্বের সনদ নয় : ভারত
সংগৃহীত ছবি

পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে ভারতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভারতীয় পাসপোর্ট মূলত একটি ভ্রমণ নথি। এটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বিদেশে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়। তাই পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত বা একমাত্র প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সম্প্রতি ভারতের পাসপোর্ট ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক চলাচল এবং বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সেবা সহজ করা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং আরো বেশি মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, পাসপোর্ট দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশ ভ্রমণ সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচয় নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই সরকারের এই ব্যাখ্যা এসেছে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে পাসপোর্টসেবায় বড় ধরনের উন্নতি আনা হয়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, আবেদনকারীরা বর্তমানে পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্রগুলোতে গড়ে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করছেন। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। 

ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সরকার জানিয়েছে, গত বছরের মে মাস থেকে নতুন ইস্যু করা সব পাসপোর্টে বিশেষ ইলেকট্রনিক চিপ যুক্ত করা হচ্ছে। এই চিপে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মান অনুসরণ করে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে পাসপোর্ট জালিয়াতি কমবে, নিরাপত্তা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সীমান্ত চেকপয়েন্টে যাচাই প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।

ভারতের পাসপোর্টসেবা নেটওয়ার্কও উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এক দশক আগে যেখানে এই সেবার পরিধি সীমিত ছিল, সেখানে বর্তমানে সারা দেশে ৫৪৫টি পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র চালু রয়েছে। এটি আগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। চলতি বছরে আরো ২০টি নতুন কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি লোকসভা আসনে অন্তত একটি পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রায় সব সংসদীয় এলাকাই এই সেবার আওতায় এসেছে। শুধু প্রায় ৩০টি জেলায় এখনো স্থায়ী কেন্দ্র নেই। এসব দুর্গম এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পাসপোর্ট দল পাঠিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। গত বছর পরিচালিত বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ মানুষকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

এত উন্নয়ন সত্ত্বেও ভারতে এখনো পাসপোর্টধারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের কাছে পাসপোর্ট রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই আরো বেশি মানুষের হাতে পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। 

ভারত বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চলাচল ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ২৫টি দেশের সঙ্গে মোট ২৭টি চলাচল চুক্তি করেছে। এসব দেশের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ রয়েছে। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক, প্রশিক্ষণার্থী, পেশাজীবী এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের আন্তর্জাতিক চলাচল সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি দেশ ভারতীয় নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেয়। আরো ৪৭টি দেশ পৌঁছানোর পর ভিসা বা ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা দেয়। এ ছাড়া ৬৬টি দেশে ভারতীয় নাগরিকরা ই-ভিসা সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। 

বিদেশে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয়দের জন্যও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, উন্নত সংস্করণের ই-মাইগ্রেট ২.০ প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে অভিবাসন ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ ভারতীয় কর্মী এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ ছাড়া ১৭টি পাসপোর্ট অফিসে স্বয়ংক্রিয় ও দৈবচয়নভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে এবং আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমিয়েছে।

সরকার কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার আগে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের গন্তব্য দেশের সংস্কৃতি, আইনকানুন এবং প্রয়োজনীয় কাজের দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ভারত একটি বড় মানবসম্পদ চলাচল ফোরামের আয়োজন করবে। এতে জার্মানি, ইতালি, জাপান, রাশিয়া এবং ডেনমার্ক অংশ নেবে। এর লক্ষ্য হলো দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের বিদেশের দায়িত্বশীল নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সিঙ্গাপুরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য আইনি সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ সেবা চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে বিপদে পড়া নারী কর্মীরা এসব সেবা থেকে উপকৃত হচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো পাসপোর্টকে সীমিতসংখ্যক মানুষের নথি হিসেবে না রেখে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করে তোলা। তাদের মতে, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পাসপোর্ট ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।