• ই-পেপার

ভিনিসিয়ুসের বাতিল গোল নিয়ে বিতর্ক, আসলেই কি ফাউল ছিল

নকআউটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে?

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে?
ছবি : রয়টার্স

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে সাম্বা বয়দের প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ব্রাজিল মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের। এই দৌড়ে সমীকরণের টেবিলে ঝুলে আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচ দুটি শেষেই পরিষ্কার হবে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ। কানসাস সিটিতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস, আর একই সময়ে ডালাসে লড়বে জাপান ও সুইডেন।

বর্তমানে নেদারল্যান্ডস ও জাপান—দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৪। এমনকি তাদের গোল ব্যবধানও সমান (+৪)। তবে ৭ গোল করে টেবিলের শীর্ষে আছে ডাচরা, যেখানে জাপানের গোল সংখ্যা ৬। অন্য দিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে রেসে টিকে আছে সুইডেন।

ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হলে সুইডেনের সামনে সমীকরণটি বেশ সহজ। প্রথমত, তাদের জাপানকে হারাতে হবে এবং একই সঙ্গে আশা করতে হবে যেন নেদারল্যান্ডস তাদের ম্যাচে জয় পায়। এমনটা হলে ডাচরা ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, সুইডেন ৬ পয়েন্ট নিয়ে হবে দ্বিতীয় (ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ) এবং জাপান ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে যাবে। তবে নেদারল্যান্ডস যদি পয়েন্ট হারায়, আর সুইডেন জিতে যায়, তবে সুইডিশরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ব্রাজিলকে এড়িয়ে যাবে।

জাপান যদি জিতে যায় এবং নেদারল্যান্ডস ড্র করে বা হারে, তবে জাপান হবে গ্রুপ সেরা, আর ব্রাজিলের সামনে পড়বে ডাচরা। অন্য দিকে, নেদারল্যান্ডস জিতলে এবং জাপান ড্র করলে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানকে। যদি দুই দলই তাদের ম্যাচে একই ফলাফল (উভয়েই জয়, ড্র বা হার) পায়, তবে সুইডেন ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

নেদারল্যান্ডস ও জাপানের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় হেড-টু-হেডে কেউ এগিয়ে নেই। পয়েন্ট ও গোল পার্থক্যও সমান। তাই শেষ পর্যন্ত মোট গোল সংখ্যা এবং শেষ ম্যাচের স্কোরলাইনের টাইব্রেকার নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে কোন গ্রুপ সেরা হচ্ছে আর কে যাচ্ছে ব্রাজিলের ডেরায়। 

বিশ্বকাপে মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন নেইমার
নেইমার জুনিয়র। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নামলেন নেইমার। আর মাঠে নেমেই ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে গড়লেন একটি অনন্য রেকর্ড।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৭৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কাফ ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তবে সুস্থ হয়ে ফিরেই নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।

এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছিলেন নেইমার। এবার ২০২৬ আসরে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার বিরল রেকর্ড গড়লেন।

নেইমারের আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জালমা সান্তোস, ফুটবল সম্রাট পেলে এবং সাবেক অধিনায়ক কাফু।

দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরাটা নেইমারের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হাঁটুর ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের গুরুতর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছেন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই তারকা।

এদিকে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। 

ঐতিহাসিক জয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা, শঙ্কায় কোরিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
ঐতিহাসিক জয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা, শঙ্কায় কোরিয়া
ছবি : রয়টার্স

ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে তারা। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে আজ এশিয়ান পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে বাজিমাৎ করে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।

প্রথমার্ধে সমতায় থাকার পর ম্যাচের ৬২ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো। এরপর বহু চেষ্টার পরও ম্যাচে ফিরতে পারেননি সনরা।

টানটান উত্তেজনার এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩ ম্যাচ শেষে দলটির সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারলেও বিশ্বকাপ থেকে এখনই পুরোপুরি ছিটকে যায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে তারা। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে সেরা আটে থাকতে পারলে এখনো দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে এশিয়ান দলটির। তবে তার জন্য গ্রুপ পর্বের বাকি সব ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কোরিয়ানদের।

 

অন্য দিকে, নিজেদের মাটিতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচের সব কটিতে জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্বাগতিকেরা। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি পা রাখবে পরের রাউন্ডে। সেই সমীকরণে মেক্সিকোর সঙ্গী হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

চেকিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে মেক্সিকো

ক্রীড়া ডেস্ক
চেকিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে মেক্সিকো
ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধে গোলশূন্য লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে চেকিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। এই জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।

মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। দুই পক্ষই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকে।

বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৪তম মিনিটে লুইস রোমোর নিখুঁত পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন মাতেও চাভেজ। এই গোলেই এগিয়ে যায় মেক্সিকো।

গোল হজমের পর চেকিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ তাদের কোনো সুযোগ দেয়নি। বরং ৬১তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান কিনিওনেস। জর্জে সানচেজের পাস থেকে সহজ ফিনিশে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে যোগ করা সময়ে আরো একটি গোল পায় মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর পাস থেকে আলভারো ফিদালগো দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচটিতে ইতিহাসও গড়েন ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপে মেক্সিকোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে মাঠে নামেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। প্রায় ৭২ মিনিট মাঠে থেকে মাঝমাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি।

টানা তিন ম্যাচ জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নকআউট পর্বে উঠল মেক্সিকো। অন্যদিকে টানা ব্যর্থতায় শেষ ষোলোয় ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেল চেকিয়ার।