মানুষের আত্মিক ও মৌলিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ সংগীত বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতিটি স্তরেই সংগীতের প্রভাব অত্যন্ত জোরালো। আমাদের বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরন্তন ও অপরিসীম। তারা আমাদের জাতীয় জীবনের পথপ্রদর্শক। নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের এই অনন্য সৃষ্টি ও সাহিত্যকর্মকে আরো বেশি ছড়িয়ে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পঞ্চম রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত উৎসবের সমাপনী দিনে ‘নজরুল-পর্ব’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি সংগীতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানুষের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি নিজের কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রতি তার গভীর অনুরাগের কথাও উল্লেখ করেন।
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পান, সেজন্য একটি কার্যকর ও সরাসরি কর্মসংস্থানের পথ তৈরির বিষয়ে কাজ চলছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীতপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে।
সমাপনী দিনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা এবং নজরুলসংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সংগীত পরিবেশন করেন।






