অবকাঠামো ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও চিকিৎসক সংকট কাটেনি রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে। সম্প্রতি হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও অনুমোদিত চিকিৎসক পদের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনো শূন্য রয়েছে। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাও মিলছে না।
জেলার ৬ উপজেলার লাখো মানুষের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৭টি। এর মধ্যে ৪৫টি পদ বর্তমানে শূন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে বেশি। ১০ জন সিনিয়র কনসালট্যান্টের সবগুলো পদই শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের দুটি পদ এবং জুনিয়র কনসালট্যান্টের চারটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগে। দীর্ঘদিন ধরে এ দুটি বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হৃদরোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ফরিদপুর, ঢাকা কিংবা অন্য জেলায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ-দুই দিক থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজন দেলোয়ার হোসেন, সিহাবুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, লাবনী আক্তার, সুমাইয়া আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
রাজবাড়ী নাগরিক সমাজের সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতালে এত বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়েও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না হলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে জেলার মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।







