চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ডিডিএনের মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির, মো. গিয়াস, মো. নয়ন ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ফরহাদ। এর মধ্যে ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মনিরের বিরুদ্ধে সাতটি এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনের মুঠোফোনে কল করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তারা কার নির্দেশে হামলা চালিয়েছে, তা জানতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের পরিচয়ও বেরিয়ে আসবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, হামলার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন অংশ নিয়েছিল। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেভিড ইমনকে এখনো গ্রেপ্তার করা না যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আপনাদের কাছেও কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানাবেন।
ইমনের বিরুদ্ধে কতটি মামলা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। তার নামে অনেকগুলো মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রামে নীরবে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, যেসব এলাকার তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, সেসব স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিরাপত্তায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কেউ হুমকি দিলে বা চাঁদা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে।






