আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা সামনে রেখে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন।
রবিবার (২৬ জুলাই) বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট পেশ করা হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন।
আরো পড়ুন
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
বাজেট উপস্থাপনকালে প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, প্রথমবারের মতো বগুড়া সিটির মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগরভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত পুনর্নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠন, বহুতল সপ্তপদী শপিং মল নির্মাণ, সাত মাথাসহ চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নগরজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীন জানান, যানজট নিরসনে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা নিবন্ধন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন, গাড়ি পার্কিং স্ট্যান্ড নির্মাণ এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট ও পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন (সিবিও)-এর কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছর প্রতি বছর ৫০ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এডওয়ার্ড পার্ক, শহীদ খোকন পার্ক ও নীলসাগর দিঘীর আধুনিকায়ন এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।
নাগরিক সেবা ডিজিটাল করতে ডি-নথি চালু, সব ধরনের সেবা অনলাইনে আনা, নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার, নারী ও প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং আধুনিক কসাইখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সচিব মোছা. পপি খাতুন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।