• ই-পেপার

সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ১০ নৌকা ধ্বংস, জরিমানা

আ. লীগের পথে হাঁটলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে না : পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
আ. লীগের পথে হাঁটলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে না : পানিসম্পদ মন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগের শাসনামলের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, লক্ষ্মীপুর জেলা আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘পার্লামেন্টে বক্তব্যটা দায়িত্বশীল আকারে দেওয়া দরকার। সেটা প্রত্যেক সংসদ সদস্যই গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দেশের প্রয়োজনে এবং জনসাধারণের প্রয়োজনের সেখানে আপনার বক্তব্যটা দিতে হবে। প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলকে পরামর্শ আকারে কিছু কথা বলেছি। এখন দ্বিতীয় অধিবেশনে তারা বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সভা করেন। ম্যাচিউরড ও দেশপ্রেম নিয়ে যে কথাগুলো তুলে ধরা দরকার, তুলে আনা প্রয়োজন, তা তাদের সভায় উঠে আসছে না।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির রাজনীতি থেকে দেশ কী পাবে, তারা কী দিচ্ছে কিংবা জনগণ কী আশা করতে পারে—এ বিষয়টি নবীন ও প্রবীণ সবাই বোঝেন। রাজনীতির সঙ্গে দেশপ্রেম, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকা উচিত। সেখান থেকেই সেবা, সম্মান, শ্রদ্ধা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসন দেখে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন তাদের নিয়ে আলাদা করে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিই, আওয়ামী লীগ যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, চাকরি দেওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মকাণ্ড—সেই একই পথে আমরা হাঁটলে মানুষ আমাদের কখনো বিশ্বাসের জায়গায় রাখবে না। জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে পড়ব।’

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরো বলেন, ‘আমরা মনে করছি যুদ্ধ করতে করতে ব্যর্থ হচ্ছি, আর কত নিজেকে বিলিয়ে দিব? কিন্তু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো পরাজিত হতে পারেন না, পিছপা হতে পারেন না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের ও নবীন আইনজীবীদের পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই।’

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফেরদাউস মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।

চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবি
সংগৃহীত ছবি

দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ আট বছর ধরে স্থগিত থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইকের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অধীর বাউরীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক নেতা রঘু দাস, কালগুল চা বাগানের যুব নেতা রবি ছত্রী, হিলুয়াছড়া চা বাগানের রবি মাল, কেওয়াছড়া চা বাগানের সঞ্জীব কুর্মি এবং মালনীছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সদস্য মালতি যাদব প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন চলছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের একটি বিল নিয়ে আলোচনা হলেও শ্রমমন্ত্রীর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাসের পর বিলটি প্রত্যাহার করা হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে শ্রমমন্ত্রী চা শ্রমিকরা মজুরির পাশাপাশি বাসস্থান, রেশন, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা পান বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। এ মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদাও পূরণ সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন, পাঁচ সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের শুধু খাদ্য ব্যয় মেটাতেই প্রতিদিন সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রয়োজন। ফলে ৬০০ টাকার মজুরির দাবি বিলাসিতা নয়, বরং ন্যূনতম জীবনধারণের দাবি।

সমাবেশে মালিকপক্ষের মজুরি সংক্রান্ত দাবির সমালোচনা করে বলা হয়, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা বসতভিটায় উৎপাদিত ফলমূলের মূল্যকে মজুরির অংশ হিসেবে দেখানো শ্রম আইনসম্মত নয়। শ্রম আইন অনুযায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, অবসরভাতা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা মজুরির অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এসব খাতকে মজুরির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। দাবি বাস্তবায়নে  দ্রুত উদ্যোগ না নিলে দেশের সব চা বাগানের শ্রমিক, ছাত্র-যুবক এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন বক্তারা।

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি
সংগৃহীত ছবি

অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড। সম্প্রতি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, অতি বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানটি সব সময় সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও তারা দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মতিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ওমর ফারুক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ফের বন্য হাতির তাণ্ডব, আতঙ্কে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, আনোয়ারা
ফের বন্য হাতির তাণ্ডব, আতঙ্কে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াং পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আবারও বন্য হাতির তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির পাল বসতঘর, ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি করায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের ১৩ এপ্রিল চারটি হাতি বাঁশখালীর বনে ফিরে যাওয়ার পর এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে সম্প্রতি আবারও হাতির আনাগোনা শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভোররাতে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মুহাম্মদপুর এলাকায় হাতির আক্রমণে মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বসতঘরের পাকা দেয়াল ভেঙে যায়। এ সময় ঘরে রাখা ধানের বস্তাও নষ্ট হয়।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভোররাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি হাতি পাশের কক্ষের দেয়াল ভেঙে ধানের বস্তা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কোনোমতে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পাই।’

এর এক দিন পর, রবিববার (২৬ জুলাই) ভোররাতে গুয়াপঞ্চক মধ্যম এলাকার মাহমুদউল্লাহ পাড়ায় ওসমান গনির বাড়িতেও হামলা চালায় হাতির পাল। এতে বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গাছপালাও নষ্ট হয়।

ওসমান গনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। মাঝরাতে পরিবারের সদস্যরা ফোনে হাতির হামলার খবর দেন। এর আগেও কয়েকবার তার বাড়িতে হাতির আক্রমণ হয়েছে। এবারও ঘর ভেঙে গেছে। তবে স্ত্রী-সন্তান অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাতির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আন্দোলনকারী স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে চুনতি অভয়ারণ্য থেকে হাতির দল দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে রাতের আঁধারে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর বিভিন্ন গ্রামে নেমে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত হাতির আক্রমণে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ রয়েছেন। পাশাপাশি বসতবাড়ি, দোকানপাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড)-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, হাতিগুলোর ফিরে আসা উদ্বেগজনক। এর ফলে কেইপিজেডের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিকের নিরাপদ যাতায়াত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বাঁশখালী জলদী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, হাতি আবার আনোয়ারায় ফিরে এসেছে বলে খবর পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ইলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) রাতে পাহারায় রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে হাতির উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হবে। একই সঙ্গে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।