• ই-পেপার

মুন্সীগঞ্জে মদ্যপানে প্রাণ গেল ৪ জনের, হাসপাতালে ভর্তি আরো ৩

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ৮০ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য

মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ৮০ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল।

অবকাঠামো ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও চিকিৎসক সংকট কাটেনি রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে। সম্প্রতি হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও অনুমোদিত চিকিৎসক পদের প্রায় ৮০ শতাংশ এখনও শূন্য রয়েছে। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছেঅনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাও মিলছে না।

জেলার ৬ উপজেলার লাখো মানুষের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৭টি। এর মধ্যে ৪৫টি পদ বর্তমানে শূন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে বেশি। ১০ জন সিনিয়র কনসালট্যান্টের সবগুলো পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়া প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের দুটি পদ এবং জুনিয়র কনসালট্যান্টের চারটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।

সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থা মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগে। দীর্ঘদিন ধরে এ দুটি বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হৃদরোগসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ফরিদপুর, ঢাকা কিংবা অন্য জেলায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ-দুই দিক থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজন দেলোয়ার হোসেন, সিহাবুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, লাবনী আক্তার, সুমাইয়া আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

রাজবাড়ী নাগরিক সমাজের সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু বলেন, ‘২৫০ শয্যার হাসপাতালে এত বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়েও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না হলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে জেলার মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, গ্রেপ্তার ৩

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে মাদক পাচারকালে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু রাবার বাগান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পাচারকারীরা হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের শালুকিয়া গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের পশ্চিম নাউ এলাকার মৃত শহিদুল ইসলাম সুরুজের মেয়ে সিমা ইসলাম (২২) ও মিরপুর ১ নম্বর এলাকার কামরুজ্জামান রনির মেয়ে উর্মি আকতার উষা (১৯)।

কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেন মন্ডল জানান, পাচারকারীরা একটি প্রাইভেট কারে টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান কিনে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মীরা কারটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাসহ পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করেন। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

কেরানীগঞ্জে নৌঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে নৌঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বুড়িগঙ্গা নদীতে সিমসন খেয়াঘাট আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া এবং পারাপারের ভাড়া ২ টাকা বহাল রাখার দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এ সময় তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, ঘাটটি আগের স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর নদীপথে আসা পাইকারি ক্রেতাদের অতিরিক্ত পথ হেঁটে বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি পারাপারের ভাড়া ২ টাকা থেকে ৫ টাকা করারও প্রতিবাদ জানান তারা।

সমাবেশে ব্যবসায়ীরা বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি পোশাকের বাজার। ১৯৮০ সালের দিকে এ বাজার গড়ে ওঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা নৌপথ, ট্রলার ও অন্যান্য যানবাহনে এখানে এসে পোশাক কেনেন। তাদের ভাষ্য, নদীপথে আসা ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০০৭ সালে প্রথমবার সিমসন খেয়াঘাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে আন্দোলনের মুখে আলোচনার মাধ্যমে তা আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবার ঘাটটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান ঘাটে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই ব্যবসা ও জনস্বার্থে ঘাটটি পুনরায় আগের স্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।

LLL

ব্যবসায়ী মো. মারুফ বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লিতে প্রায় ৪০০ বহুতল মার্কেট, ১০ হাজারের বেশি শোরুম এবং কয়েক হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে। এখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকের বড় একটি অংশের চাহিদা এ বাজার থেকে পূরণ হয়। প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী নদীপথে এ এলাকায় যাতায়াত করেন। তাই ব্যবসার স্বার্থে ঘাটটি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন সোনামিয়া বলেন, ঘাট স্থানান্তরের পর পাইকারি ক্রেতাদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে বাজারে আসতে হচ্ছে। এতে ক্রেতা কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাটটি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা হলে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরবে। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে ঘাট স্থানান্তরের কারণ, পারাপারের ভাড়া বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

নাটোরে এক সঙ্গে বৃত্তি পেল জমজ তিন বোন

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে এক সঙ্গে বৃত্তি পেল জমজ তিন বোন
ছবি: কালের কণ্ঠ

একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিও পেয়েছে একসঙ্গে। তারা হলো তনোয়া ফাতেমা, তাসমিয়া মরিয়ম ও আয়েশা সিদ্দিকা। তারা নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম সরকার ও গৃহিণী শিল্পী খাতুন দম্পতির সন্তান।

শিক্ষার্থীদের বাবা রেজাউল করিম সরকার জানান, তাদের একসঙ্গে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তাদের তিন বোনের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। তারা নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে। আল্লাহ তায়ালার রহমত, স্বজনদের অনুপ্রেরণা, তাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা আর শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাই তাদের এ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুন কেয়া বলেন, তারা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বেশ ভালো। তারা যথেষ্ট ভদ্র ও বিনয়ী। তাদের এমন সাফল্যে আমরা সবাই খুশি। আগামীতে তারা আরো ভালো ফলাফল করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

জোনাইল এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন বলেন, তারা তিনজনই আমাদের বিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত। আশা করি তারা ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এটি একটি বিরল ঘটনা বলা চলে। আমি তাদের আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

মুন্সীগঞ্জে মদ্যপানে প্রাণ গেল ৪ জনের, হাসপাতালে ভর্তি আরো ৩ | কালের কণ্ঠ