• ই-পেপার

ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, সড়কে গেল প্রাণ

পাকুন্দিয়ায় ১ রাতে ৩ কৃষকের ৬ গরু চুরির অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় ১ রাতে ৩ কৃষকের ৬ গরু চুরির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক রাতেই ৩ কৃষকের মোট ৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ জুলাই) শেষ রাতে পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বরাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে বরাটিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের গোয়ালঘরের তালা কেটে একটি চোর চক্র একটি গাভী ও একটি বাছুর চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে গোয়ালঘরের ফটকের তালা কাটা দেখে তিনি গরু চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। একই রাতে একই এলাকার অপর কৃষক রবিন মিয়ার গোয়ালঘরের টিনের বেড়া কেটে একটি গাভী ও একটি বাছুর নিয়ে যায় চোরের দল।

এর পাশাপাশি কৃষক মো. মকবুল মিয়ার একটি গাভী ও একটি বাছুরও নিয়ে যায় চোরের দল। সকালে তিনি গোয়ালঘরের টিনের বেড়া কাটা দেখে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন তার একটি গাভী ও একটি বাছুর নেই। চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। গত কয়েকমাস ধরে গরু চুরির ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক রবিন মিয়া জানান, চোরের দল আমার দুধের গাভীটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আমি দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতাম। 

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিলল একাধিক গোপন পথ

অনলাইন ডেস্ক
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিলল একাধিক গোপন পথ
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের অবাধ যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের কাটা অংশ এখন শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বরং ইয়াবা পাচার, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। কালবেলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে মানুষের চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও পুরো অংশ সরিয়ে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি ও শিশু নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের কাটা অংশ ব্যবহার করে দ্রুত ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে। এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কাটা অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। এসব পথ বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যারা অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।

উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমন কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই হবে না, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই বেড়া যদি কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করা হয়, তাহলে পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অবিলম্বে কাটা অংশ মেরামত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ

‘সামাজিক সংগঠনের’ সদস্যদের বিরুদ্ধে তরুণ হত্যার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
‘সামাজিক সংগঠনের’ সদস্যদের বিরুদ্ধে তরুণ হত্যার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসা থেকে ধরে নিয়ে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এলাকার ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণ ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাওসার আহমেদের নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত আল-ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য রাতে সিজানকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজনরা দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আল-ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা মসজিদের ইমাম কাওসার আহমেদের দাবি, সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। তাকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে ডেকে বুঝিয়ে বলা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সিজানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উপস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নারায়ণগঞ্জ

হত্যা মামলায় সাবেক এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
হত্যা মামলায় সাবেক এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সাবেক নেতাসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১ কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক।

এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি উপজেলার সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে শোয়াইব রহমান সোহেব (৪২) এবং ১০ নম্বর আসামি বন্দর শাহি মসজিদ এলাকার বছিরের ছেলে মো. সুমন (৩৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজে টাকা লেনদেন নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত আলমগীর বন্দর শাহি মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান জানান, গ্রেপ্তার শোয়াইব রহমান সোহেব একসময় এনসিপির বন্দর উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১-এর কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক বলেন, ‘বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের বন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, সড়কে গেল প্রাণ | কালের কণ্ঠ