টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, ব্যাহত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ওয়াহেদপুর, পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক বাড়িঘর, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, রিকশা-ভ্যানচালক, সিএনজিচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কাজ না থাকায় অনেক পরিবার আয়-রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।
ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে পুরো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শত শত মানুষ এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
একই ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আগেই রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ ছিল। টানা বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢলে সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে।’
রিকশাচালক ফকির আহম্মদ বলেন, ‘তিন দিন ধরে ঠিকমতো আয় নেই, যাত্রীও কম। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই বৃষ্টির মধ্যে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।
মিঠাছরা বাজারের ভ্যানচালক আলী মিয়া বলেন, ‘তিন দিন ঘরে ছিলাম। ঘরে চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ বের হয়েছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোনো ভাড়া পাচ্ছি না।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে আউশ ধানের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে উপজেলার কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টি কমে গেলে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেসব এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, সেসব এলাকার তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।’




