প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন ষষ্টি চন্দ্র বর্মন। ৬৮ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের ছিল মানসিক সমস্যাও। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজেছেন নানা জায়গায়। এর পরই আসে আলোচনার ঝড় তোলা সেই ঘটনাটি। দুই দেশের শূন্য রেখায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছেন ষষ্টি। বিষয়টি নজরে আসে পরিবারের সদস্যদের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।
শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফিরেছেন ষষ্টি চন্দ্র। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই অবসান হয়েছে শাসরুদ্ধকর ২৪ ঘণ্টা ও পরবর্তী অনিশ্চয়তার। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে থানায় এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানায় আসেন বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্রের স্বজনরা। সেখানে তাদের সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের। উল্লেখিত তথ্য এ প্রতিবেদককে তারাই জানান। এ সময় ষষ্টি চন্দ্রের মেয়ে জামাই গৌরী বর্মন বলেন, 'আমার শ্বশুর তার বাড়ি থেকে দুই মাস আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। গতকাল (বুধবার) আমরা ভিডিও দেখে শ্বশুরের পরিচয় নিশ্চিত হই। পরে থানা থেকে তাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। আমার শ্বশুরের মাথায় একটু সমস্যা রয়েছে।'
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, 'বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্রের স্বজনরা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় আসেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে (ষষ্টি চন্দ্র) পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে এই সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন, সে বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু বলতে পারেননি।'
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কয়েকজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করে। তার মধ্যে শূন্যরেখায় আটকা পড়েন বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মন।
বুধবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে আলো নিভিয়ে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে ষষ্টিকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় ওই বৈঠক।
এদিকে, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের বাধা পেয়ে অন্যরা সরে গেলেও আটকা পড়েন বৃদ্ধ ষষ্টি। পরে ওই বৃদ্ধ ভারতে ফিরে যেতে চাইলে বিএসএফ সদস্যরা তাতে বাধা দেন। বাংলাদেশেও তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এতে তিনি দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসংলগ্ন ও বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিচ্ছিলেন ষষ্টি চন্দ্র। পরে তিনি সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।





