সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি হয়ে যাওয়া এক নবজাতককে চিরুনি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নবজাতকটি হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হলেও মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই থানার যৌথ অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন উপজেলার সদর ইউনিয়নের আন্ধারীগাঁও সড়কের পাশ থেকে আনুমানিক ৪-৫ দিন বয়সী এক নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কাওসার আহমদ। পরে তিনি শিশুটিকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর করে। এ সময় নবজাতকটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য ১৩ জন আবেদন করেন।
এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কাওসার আহমদ নবজাতকটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে কাওসার আহমদ ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগম নবজাতকটিকে নিয়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থান করছেন। পরে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এবং শান্তিগঞ্জ থানার সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বাদউল্লাহপুর (মানিকপুর) গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কাওসারকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন সৈয়দ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতে কল্পনা বেগমের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, উদ্ধারের পর নবজাতকটিকে পুনরায় ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে দত্তক গ্রহণে আবেদনকারী ফয়সল আহমদের স্ত্রী রোকসানা বেগমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরিফিন বলেন, ‘নবজাতকটিকে সমাজসেবা বিভাগের আওতায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শফিউর রহমান জানান, নবজাতকটিকে দত্তক দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুই থানার সমন্বিত ও চ্যালেঞ্জিং অভিযানের মাধ্যমে নবজাতকটিকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেন, ‘একটি কমিটি গঠন করে আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে নবজাতকটিকে হস্তান্তর করা হবে।’