বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলা জজ আদালত ভবনের কচুয়া আদালতের এজলাস-সংলগ্ন বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন হাবিবুল্লাহ শেখ, তার বাবা মো. সিরাজ শেখ, সুমন দাস, হৃদয় হাওলাদার ও মোতালেব। তাদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বারান্দার ছাদের একটি অংশের পলেস্তারা ভেঙে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বিচারপ্রার্থীদের ওপর পড়ে। এতে পাঁচজন আহত হন। এ সময় ছাদের ভেতরের রডও বেরিয়ে আসে। ফলে ভবনের ওই অংশে আরো দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আহত সুমন দাস ও হৃদয় হাওলাদার জানান, তারা আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে তাদের ওপর পড়ে। এতে দুজনের মাথা ফেটে যায় এবং অন্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। অন্যদের ঘাড় ও পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের নাজির অমিত কুমার বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনটি ব্যবহার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে।’
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন বলেন, ‘জেলা জজ আদালতের নিচতলায়, যেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালত পরিচালিত হয়, সেই অংশের কচুয়া আদালতের সামনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা হঠাৎ খসে পড়ে। এতে সেখানে অপেক্ষমাণ কয়েকজন বিচারপ্রার্থী আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনটি অনেক পুরোনো। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একাধিক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ভবনটির সংস্কার প্রয়োজন। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।




