• ই-পেপার

এর চেয়ে তো পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলাম : ফখরুল

নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৯ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৯ জন গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন, পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৭ জুন রাত থেকে ৮ জুন ভোর পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি আব্দুল আলীপুল, এসও রোড শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস এলাকা, সাহেবপাড়া ও উত্তর আজিবপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সাত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং ১৭৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় দুইজন, চুরি মামলায় দুইজন, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় একজন, পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত আরো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মাদক মামলায় রয়েছেন, রোস্তম আলী (৫০), বিজয় প্রকাশ মন্টু (২২), আরিফ হোসেন (২০), মিলন হোসেন (২৫), শান্ত (২৫), শ্রাবন্তী (২১), আবু তাহের বেংগা (৩৫)। ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায়, রাজন (৩২), আরিফুল হাসান আলভী (১৯) নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায়, রুবেল (৩৬, চুরি মামলায়, হাসান মৃধা (৩৪), সাইদুল ইসলাম শাকিল (২২)। অন্যান্য মামলায় জুবায়ের (২৭), কাইয়ূম ইসলাম (২২), শিপন (২৯), রনি মিয়া (২৫), হাফিজুল ইসলাম (২৮), তাইজুল ইসলাম (৩৪),পরোয়ানাভুক্ত আসামি রোস্তম আলী (৫০)।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসহ বিভিন্ন মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
 

কুড়িগ্রামে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে এক নারী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে এক নারী
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক মাসের ব্যবধানে আবারো একটি উঁচু তেঁতুল গাছের মগডালে উঠে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাজেদা বেগম (৫০) নামের এক নারী।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর তাকে দেখতে গাছের নিচে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ের তেঁতুল গাছের একেবারে উঁচু ডালে সাজেদা বেগমকে বসে থাকতে দেখা যায়। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় জমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছের নিচে মানুষের জটলা দেখে সাজেদা ধীরে ধীরে ডাল বেয়ে নিচে নামতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি গাছ থেকে নেমে সরাসরি পাশের পুকুরে লাফ দেন। পরে বুকসমান পানি পেরিয়ে পাড়ে উঠে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে যান।

ততত

সাজেদা বেগম গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আবু সাঈদের স্ত্রী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি মাঝেমধ্যে এমন অস্বাভাবিক আচরণ করেন। তাদের ধারণা, কোনো অদৃশ্য প্রভাব বা মানসিক অস্থিরতার কারণেই তিনি এ ধরনের কাজ করছেন।

এর আগে গত ৬ মে একই এলাকায় একদিন নিখোঁজ থাকার পর ওই তেঁতুল গাছের মগডাল থেকেই তার সন্ধান পাওয়া যায়। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি নিজেই নিচে নেমে পুকুরে ঝাঁপ দেন।

তার স্বামী আবু সাঈদ জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন। বহু চিকিৎসা করানো হলেও চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয় করতে পারেননি। গত চার বছর ধরে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তাকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করেও দেখা গেছে তিনি ভেতরে নেই। গত রমজান মাসে একবার গাছে উঠেছিলেন। এরপর ৬ মে আবারো গাছে উঠলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। আজ আবারো গাছে ওঠায় তারা বিব্রত বলে জানান তিনি।

সাভারে বিশেষ অভিযানে ১১ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে বিশেষ অভিযানে ১১ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন এবং মাদক বিক্রির অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন আশুলিয়ার কুমকুমারী এলাকার মো. রাসেল (৩৯), কাইচাবাড়ী এলাকার মো. সজিব হোসেন (৩০), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শ্রাবনী আক্তার ওরফে আলিফা (২২), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মো. জাহিদ হাসান ওরফে শুভ (২৯), জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মো. ওয়াজেদ শেখ (২৮), ধামরাইয়ের সুয়াপুর গ্রামের মো. ইব্রাহিম (৫০), নান্না গ্রামের মো. হুকুম আলী (৫০), উত্তর হাত কোড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম (৪০), জালসা গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম শিবলু (৩৬), সাভারের বাগ্নিবাড়ি গ্রামের পাখি বেগম (৪২) এবং আকরান গ্রামের মো. আরিফ মিয়া (২৫)।

পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় জেলা ডিবির (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পেশাদার মাদক কারবারি এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে।’

ধামরাই

যাত্রীছাউনি এখন পলাতক চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
যাত্রীছাউনি এখন পলাতক চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা
ঢাকার ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে ধামরাই বাজার-কালামপুর বাজার সড়কে নির্মাণ করা যাত্রীছাউনি যা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা হিসেবে। ছবি ; কালের কণ্ঠ

সড়কটিতে তিন চাকার অটোরিকশার দাপট। চলে না যাত্রীবাহী বাস। অথচ নির্মাণ করা হয় যাত্রীছাউনি। সরকারের দুই লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা অপরিকল্পিত যাত্রীছাউনিটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা হিসেবে। 

ঘটনাটি ঢাকার ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের। আট মাস আগে ওই গ্রামের ধামরাই বাজার-কালামপুর বাজার সড়কে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে দিয়ে তার বাড়ির সামনে যাত্রীছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। অথচ সড়কটিতে কোনো যাত্রীবাহী যান চলে না। তা ছাড়া স্থানটি কোনো সড়কের মোড়ও নয়। ফলে যাত্রীছাউনিটি যাত্রীদের কোনো কাজেই আসছে না। 

স্থানীয়রা জানায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন যাত্রীছাউনিটি নিজের বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রশাসনের  তদারকির অভাবে এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের বাড়ির সামনে পুকুর। সেই পুকুরের কোনায় পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রীছাউনি। সামনে ‘যাত্রীছাউনি’ লেখা কোনো সাইন বোর্ড নেই। তা ছাড়া ছাউনিটি সড়কের দিকসহ তিন পাশ পাকা ইটের গাঁথুনিতে বন্ধ। খোলা রাখা হয়েছে বাড়ির পাশ। ফলে যাত্রীছাউনিটি সড়কের পাশে হলেও তা যাত্রীদের কোনো কাজেই আসছে না। অথচ এর প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত তিন রাস্তার মোড়ে প্রায়ই ভিড় থাকে যাত্রীদের। 

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর চেয়ে তো পাকিস্তান আমলেই ভালো ছিলাম : ফখরুল | কালের কণ্ঠ