• ই-পেপার

একজনের মৃত্যু, ৯ জন আক্রান্ত : নাটোরে অ্যানথ্রাক্স?

ফটিকছড়িতে চলছে হরতাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে চলছে হরতাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর সব এলাকার মানুষের সুবিধার্থে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে হরতাল পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ-এর ডাকে এই কর্মসূচি চলছে। 

বিস্তারিত আসছে...
 

জলাবদ্ধতায় হাসপাতালে নিতে না পেরে ঘরেই প্রসূতির মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
জলাবদ্ধতায় হাসপাতালে নিতে না পেরে ঘরেই প্রসূতির মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে জলাবদ্ধতায় সময়মতো হাসপাতালে না নিতে পেরে ঘরেই নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নাজমা আক্তার একই গ্রামের শাহজাহানের বাড়ির বাসিন্দা মো. হক সাবের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে বুধবার সকালে অস্বাভাবিক জোয়ারে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ইসলামপুর গ্রামের সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে পড়ে। এদিন সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র নৌকাটি ভাঙা থাকায় এবং এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ঘরেই প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনাগত সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম জানান, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে কোনো স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার জন্য সবাইকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু জোয়ারের পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় নাজমাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়েছে। তার আগে দুইটি সন্তান রয়েছে। এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিঝুমদ্বীপে চিকিৎসাসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আকাশপথে থেমে গেল যাত্রা, ফেরা হলো না ফখরুলের

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
আকাশপথে থেমে গেল যাত্রা, ফেরা হলো না ফখরুলের
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ সাত বছরের প্রবাস জীবন শেষে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ও সচ্ছলতা আনতে দেশে ফিরছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার ইতালি প্রবাসী ফখরুল ইসলাম। কিন্তু আকাশপথেই থেমে গেল টগবগে এই যুবকের জীবনের স্বপ্নময় যাত্রা।

সোমবার (১৪ জুলাই) জর্জিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ফখরুল। তিনি বড়লেখা পৌরশহরের মহুবন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল অকিদের ছেলে। নিহতের মামা লাল মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ইতালিতে কর্মজীবন শেষে রবিবার (১২ জুলাই) তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ফখরুল। যাত্রাপথে আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে বিমানটি জর্জিয়ার একটি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখান থেকে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এলাকাবাসী ও ফখরুলের পরিবার জানায়, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা। বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফখরুলের মামা লাল মিয়া জানান, সোমবার রাতেই মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন। বর্তমানে ফখরুলের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কাফির বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ কাফির বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
 
নুরুজ্জামান কাফি উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানে খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভোগদখল করে আসছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ওই জমির মধ্যে ৬ লেন সড়কের উত্তর পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে কাফি রাস্তা নির্মাণ করেন। ওই জমির পাশেই কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাতায়াতের পথ না থাকায় তিনি রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।

কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম বলেন, ‘রাতের আধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তার দাবি, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান ছিল সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের সঙ্গে। তারা উচ্চ আদালতের রায় পেয়েছে। তবে ওই দায়ের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ করেছি যা এখনো চলমান। তার মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি ছয় শতাংশ জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি দাবি করেছেন, স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না করেছেন। ওই জমি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হলে সেখানে তিনি রাস্তা নির্মাণ করেন।

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পেছনে আমি একটি জমি ক্রয় করেছিলাম। সেখানে আমার যাতায়াতের কোন পথ ছিল না। প্রধান শিক্ষককে বলেছিলাম আমাকে যাতায়াতের পথ দেয়ার জন্য তবে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। জমিটি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানদের মামলা চলছিল। ওই মামলায় তারা উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি মৌখিক বায়না করি। তারা আমাকে ৬ শতক জমি বুঝিয়ে দিলে আমি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করি। এখানে দখলের কোন বিষয় নেই।

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মালিকানা দাবি করলেও আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেন। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে নুরুজ্জামান কাফির যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তিনি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন। 

কলাপাড়া থানার উপ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, ‘নুরুজ্জামান কাফিকে জমিটিতে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমরা নিষেধ করেছি। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারের রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের দখলে দীর্ঘদিন জমিটি ছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ দিয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে নুরুজুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করছেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ রিভিউ করেছেন। রিভিউ চলাকালীন সময়ে কোন জমি দখল করা যায় না। আমরা এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফিকে নোটিশ প্রদান করব।’

একজনের মৃত্যু, ৯ জন আক্রান্ত : নাটোরে অ্যানথ্রাক্স? | কালের কণ্ঠ