• ই-পেপার

\'আমি তো মা, চোখের সামনে সন্তান দুধ চাইছে দিতে পারছি না\'

মেহেরপুরে গরুবোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে গরুবোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, আহত ১০
ছবি: কালের কণ্ঠ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গরুবোঝাই একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩৫) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রলিতে থাকা আরো ১০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

আহতরা হলেন— মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪৫), সাবদার আলী (৫০) ও রফিকুল ইসলাম (৫০); চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৫০), ওসমান আলী (৪৮) ও ইসরাফিল হোসেন (৫০); যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫); বামনপাড়া গ্রামের রাজা হোসেন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৩৫); এবং রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আহমেদ (৩৫)।

আহত শহিদুল ইসলাম জানান, তারা মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই ট্রলি নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পশুর হাটে যাচ্ছিলেন। পথে রাইপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক উজ্জ্বল হোসেন নিহত হন এবং ট্রলিতে থাকা অন্যরা আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রলিটি সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে দড়ি কেটে ট্রলিতে থাকা গরুগুলো বের করে আনা হয়। আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই উজ্জ্বল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গরুবোঝাই ট্রলি উল্টে একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ওমানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফটিকছড়ির যুবকের মৃত্যু

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ওমানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফটিকছড়ির যুবকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির প্রবাসী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম এনাম (৪০)। ফটিকছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাদি বাপের বাড়ির মৃত জাগির হোসেনের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওমানের সোহার নামক স্থানে একটি রেস্টুরেন্টে এসির কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এনাম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

নিহতের প্রতিবেশী যুবদল নেতা বেলাল বিন নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এনামের মরদেহ বর্তমানে দেশটির একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খুবই নম্র-ভদ্র এনাম সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছিলেন।’

ফুটওভার ব্রিজ পথচারীহীন, রাত নামলেই মাদকসেবীদের দখলে

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ফুটওভার ব্রিজ পথচারীহীন, রাত নামলেই মাদকসেবীদের দখলে
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী সড়কে নির্মাণ করা ফুটওভার ব্রিজ। সোমবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)-এর  প্রধান ফটকের সামনের জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী সড়কে নির্মাণ করা হয় খুলনার প্রথম ফুটওভার ব্রিজ। তবে নির্মাণের পর থেকেই তাতে পথচারীদের চলাচল নেই। রাতে চলে যায় মাদকসেবীদের দখলে।  

সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)-এর দেওয়া তথ্যমতে, ব্রিজটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের জন্য। ২০২৪ সালের জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। দৃষ্টিনন্দন ফুট ওভার ব্রিজটি স্টিল প্লেট ও ১১টি পিলারের ওপর নির্মিত।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১০ সাল থেকে প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। 

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে ফুটওভার ব্রিজটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি খুব কম মানুষই ব্যবহার করছে। 

স্থানীয়দের মতে, ভর্তি পরীক্ষার মতো বিশেষ সময় ব্রিজটির  প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভূত হলেও বছরের অধিকাংশ সময় ব্রিজটি প্রায় অব্যবহৃত থাকে। এছাড়া ব্রিজের আশপাশের এলাকার কিছু বাসিন্দা ও বহিরাগতরা মাদক সেবনসহ রাতে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ফুট ওভার ব্রিজ থাকার পরও কেন ব্যবহার করা হয় না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র বলেন,  ‘রাস্তায় স্পিড ব্রেকার থাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই  আমার কাছে ব্রিজ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে থাকা চায়ের দোকানি বলেন, ‘ব্রিজটি সারাবছর ধরেই অব্যবহৃত থাকে। রাত হলেই মাদকসেবীরা ব্রিজের ওপর মাদক সেবন করে। এছাড়া  অশালীন কার্যক্রমও দেখা যায়।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে ব্যারিয়ার স্থাপন করলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবে, ফলে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে প্রধান ফটকের বিপরীতে আরো দোকানপাট গড়ে উঠলে এর ব্যবহার আরো বাড়বে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে, সবার উচিত এটি  ব্যবহার করা।’ তিনি বলেন, ‘সেখানে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এগুলোর বিরুদ্ধে থানা, পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।’

ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে রশিদ দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তারা গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করছিলেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যার আগে সদর উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় ফরিদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে। পরে তাদের কোতোয়ালি থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। পরে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে, তারা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান।

আটকরা হলেন মো. ফরহাদ হোসেন, মো. দিলু মিয়া, মো. জুলফিকার ও মো. মতি শেখ। তারা সদর উপজেলার বাসিন্দা ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে রশিদ দিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। পরে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে অর্থ আদায়ের সময় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে প্রতিটি বাস থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে জানা গেছে, তারা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। শ্রমিক সংগঠনের তহবিলে অর্থ জমা দেওয়া হয়। শ্রমিকদের কল্যাণে সংগঠনটি কাজ করে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবহন থেকে টাকা উত্তোলনের সময় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। পরে জানতে পারি চাঁদা আদায়কারীরা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। নিহত-আহত শ্রমিকদের কল্যাণে সংগঠনটি কাজ করে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের জিম্মায় তাদের চারজনকে দেওয়া হয়েছে।’

\'আমি তো মা, চোখের সামনে সন্তান দুধ চাইছে দিতে পারছি না\' | কালের কণ্ঠ