শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)-এর প্রধান ফটকের সামনের জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী সড়কে নির্মাণ করা হয় খুলনার প্রথম ফুটওভার ব্রিজ। তবে নির্মাণের পর থেকেই তাতে পথচারীদের চলাচল নেই। রাতে চলে যায় মাদকসেবীদের দখলে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)-এর দেওয়া তথ্যমতে, ব্রিজটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের জন্য। ২০২৪ সালের জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। দৃষ্টিনন্দন ফুট ওভার ব্রিজটি স্টিল প্লেট ও ১১টি পিলারের ওপর নির্মিত।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০১০ সাল থেকে প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে ফুটওভার ব্রিজটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি খুব কম মানুষই ব্যবহার করছে।
স্থানীয়দের মতে, ভর্তি পরীক্ষার মতো বিশেষ সময় ব্রিজটির প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভূত হলেও বছরের অধিকাংশ সময় ব্রিজটি প্রায় অব্যবহৃত থাকে। এছাড়া ব্রিজের আশপাশের এলাকার কিছু বাসিন্দা ও বহিরাগতরা মাদক সেবনসহ রাতে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফুট ওভার ব্রিজ থাকার পরও কেন ব্যবহার করা হয় না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘রাস্তায় স্পিড ব্রেকার থাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই আমার কাছে ব্রিজ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে থাকা চায়ের দোকানি বলেন, ‘ব্রিজটি সারাবছর ধরেই অব্যবহৃত থাকে। রাত হলেই মাদকসেবীরা ব্রিজের ওপর মাদক সেবন করে। এছাড়া অশালীন কার্যক্রমও দেখা যায়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে ব্যারিয়ার স্থাপন করলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করবে, ফলে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে প্রধান ফটকের বিপরীতে আরো দোকানপাট গড়ে উঠলে এর ব্যবহার আরো বাড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে, সবার উচিত এটি ব্যবহার করা।’ তিনি বলেন, ‘সেখানে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এগুলোর বিরুদ্ধে থানা, পুলিশ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।’