• ই-পেপার

ব্যক্তিমালিকানা জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর!

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নেত্রকোনায় ছাত্রদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নেত্রকোনায় ছাত্রদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
ছবি : কালের কণ্ঠ

অপপ্রচার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাসান আল বান্না নামের এক ছাত্রদল নেতা। রবিবার (১৪ জুন) নেত্রকোনার মদন উপজেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

হাসান আল বান্না মদন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দের ছেলে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বাবা রফিকুল ইসলাম আকন্দ মদন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি মদন বাজারে ‘মেসার্স রওশনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

হাসান আল বান্নার দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে মদন বাজারের বাসিন্দা ও ছাত্রলীগকর্মী নাসিম খান তার ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নাজমুল হাসান পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে তাগিদ দিলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তার এবং তার বাবা রফিকুল ইসলাম আকন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি কয়েকটি গণমাধ্যমেও ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান হাসান আল বান্না। একই সঙ্গে তিনি তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান।

কুষ্টিয়া সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থানরত শিশুসহ ১২ জন অসুস্থ

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থানরত শিশুসহ ১২ জন অসুস্থ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার নারী, পুরুষ, শিশুসহ ১২ জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ চার শিশু তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বড়দের ঠান্ডা, কাশিসহ নানান শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ৫ দিন ধরে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় পাটক্ষেতে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি ও গরমের মধ্যে এক কাপড়ে অবস্থানের কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব কারণে তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানান, অসুস্থদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। শিশু সামাদের শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। বিজিবির কড়া নজরদারি থাকলেও মানবিক কারণে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা তাদের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন।

এদিকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলেও নতুন করে আরো তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আবারও পুশ ইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চর বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন এবং জয়পুর সীমান্ত দিয়ে আরো ৮ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া গত রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে শাহাবুদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে পুশ ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়। বিজিবি জানায়, তাদের কড়া নজরদারি ও টহলের কারণে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বিলগাথুয়া সামান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় সমাধানের লক্ষ্যে ওই দিন বিকেল ৪টায় পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে বৈঠকটি হয়নি।

পরবর্তীতে গত শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ১২ জন ব্যক্তি এখনও পর্যন্ত গত ৫ দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কম্পানি কমান্ডার এসি সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠকে বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চায়।

এরই মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষি বাহিনী বিএসএফ প্রতি রাতেই পুশ ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার কঠর নিরাপত্তায় তারা বার বার ব্যর্থ হচ্ছে বলেও জানান বিজিবি সূত্র।

এদিকে পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরও দুটি পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম বলেন, মানবিক কারণে তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি চারজন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে আড়াই বছরের একটি শিশু উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত। তাছাড়া বিভিন্ন বয়সের আরও তিনটি শিশু শর্দি, কাশি ও জরে আক্রান্ত। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে এসেছি। বড়রাও ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছেন। তারা জানিয়েছেন, ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে তারা গোসল করতে পারেননি এবং এখন ৫ দিন ধরে খোলা মাঠে অবস্থান করছেন।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি কালের কন্ঠকে বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ পুশ ইনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি তদন্তের জন্য সময় চেয়েছে। বর্তমানে ১২ জন ব্যক্তি শূন্যরেখার প্রায় ৫০ মিটার ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি কোনো পুশ ইন বরদাশত করা হবে না।

গাজীপুরে একাধিক স্থানে ‘টর্চার সেল’ রয়েছে, দাবি সংসদ সদস্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীপুর
গাজীপুরে একাধিক স্থানে ‘টর্চার সেল’ রয়েছে, দাবি সংসদ সদস্যের
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কয়েকটি জায়গায় ‘টর্চার সেল’ গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে এসব টর্চার সেল কারা গড়ে তুলেছে, তা তদন্ত করে দেখতে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রবিবার (১৪ জুন) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এই দাবি করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, গাজীপুরের অন্তত ৩ থেকে ৪টি জায়গায় টর্চার সেল গড়ে উঠেছে, এটা কাম্য নয়। কারা এসব সেল গড়ে তুলেছে তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এসব অপকর্মের সঙ্গে সরকারদলীয় কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, অপরাধী ধরতে গিয়ে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়। চুরি ও ছিনতাই রোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল আরো জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এ ধরনের টর্চার সেলের সংস্কৃতি দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমান নতুন সরকারের কাছে এসবের কোনো স্থান নেই। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যান্য দিক তুলে ধরে জেলা প্রশাসক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মহানগরীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহল্লায় সম্প্রতি বাসা-বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া জেলায় ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবীসহ জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির দায়ে জরিমানা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির দায়ে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পাটজাত বস্তা ব্যবহার না করে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (১৪ জুন) উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জের  সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

জানা যায়, উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে অভিযান চালিয়ে দুটি দোকানে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির অভিযোগে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর ১৪ ধারা মোতাবেক দুটি মামলায় চাল বিক্রেতা সিফাত উল্লাহকে ৩ হাজার টাকা ও আব্দুল মান্নানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  

ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন গাজীপুর পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা  কৃষিবিদ মো. আজিমউল ইসলাম ও পেশকার ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

ব্যক্তিমালিকানা জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর! | কালের কণ্ঠ