• ই-পেপার

চবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ৬ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটে লেখা হতাশার কথা!

  • মদপানে মৃত্যু রুয়েট শিক্ষার্থীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার থলিয়ারা গ্রামে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ২০ আহত হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিকেল নাগাদ এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের মিন্দার আলী (ছোট গোষ্ঠী) গোষ্ঠীর জুবায়েরের সঙ্গে বাদৈর বাড়ি (বড় গোষ্ঠির) জয়নাল মিয়ার একটি দোকানের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। দোকানটি ছোট গোষ্ঠীর শিরু মিয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের জন্য সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের ধরে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। পুলিশ আসার পর তাদের ওপরও আক্রমণের চেষ্টা করা হয়। আহতদের কয়েকজন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষের অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহনন, শ্বশুর গ্রেপ্তার

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহনন, শ্বশুর গ্রেপ্তার
রিক্তামণি। ছবি সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে রিক্তামণি (১৯) নামের এক গৃহবধূর আত্মহননের ঘটনায় তার শ্বশুর আব্দুল মন্নাফকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৭ জুন) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ৫ জুন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিক্তামণির মৃত্যু হয়। মৃত রিক্তামণি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে। 

মৃত রিক্তামণির পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মাত্র আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে সোহাগ মিয়ার (২৩) সঙ্গে রিক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিলেন সোহাগ। মোটরসাইকেল কেনার জন্য রিক্তার মা হোসনা খাতুন সোহাগকে ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে নেওয়া সেই টাকা মাদক সেবনেই উড়িয়ে দেন সোহাগ। সম্প্রতি তিনি আবারও টাকার জন্য রিক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় রিক্তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এই ক্ষোভ ও অপমান সইতে না পেরে গত ৪ জুন রিক্তা বিষপান করেন।

মৃত রিক্তার প্রতিবেশী জুলহাস মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, সোহাগ একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই রিক্তাকে মারধর করতেন। আত্মহননের ২ থেকে ৩ দিন আগেও যৌতুকের টাকার জন্য রিক্তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

আরো পড়ুন
নাটোরে আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

নাটোরে আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত রিক্তার মা হোসনা খাতুন বলেন, ‘দাবি অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে বিষ খেয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ড সমতুল্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ছেলের বাবা আব্দুল মন্নাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সোহাগসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

ময়নাতদন্ত শেষে রিক্তামণির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া

অবহেলার সেতু অবশেষে ভাঙল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
অবহেলার সেতু অবশেষে ভাঙল
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে কংস নদীর ওপরের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি রবিবার ভোরে বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ে ভেঙে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

২৫ বছর আগের বেইলি সেতু। ঝুঁকিপূর্ণ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। সেতুর দুই প্রান্তে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ লিখে সাইবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। লেখা ছিল ‘ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ’। 

নিষেধাজ্ঞার সাইবোর্ড থাকলেও ভারী যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ছিল না কেউ। ফলে নিষেধাজ্ঞা মানা হতো না। রবিবার (৭ জুন) ভোরে অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাকের চাপে সেতুটি ভেঙে পড়ে।

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে কংস নদীর ওপর সেতুটির অবস্থান। এটি ভেঙে পড়ায় এ উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নানা বিকল্প উপায়ে মানুষ চলাচল করছে। তবে তাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সেতু ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বছরের পর পর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এলজিইডি এটি  ঠিকঠাক সংস্কার করেনি। মাঝে মাঝে ছোটখাটো সংস্কার হলেও তাতে তেমন লাভ হয়নি। তাদের ভাষ্য, কংস নদীর মতো খরস্রোতা একটি নদীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও কর্তৃক্ষের গুরুত্ব না দেওয়া অবহেলার শামিল।

স্থানীয়দের দাবি, গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলাটি প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের জন্য পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি জনপদ। তবে সেখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ হতে পারেনি যাতায়াতব্যবস্থার কারণে।

ময়মনসিংহ থেকে ধোবাউড়া যেতে পার হতে হয় কংস নদী আর নেতাই নদ। দুটিই পাহাড়ি নদী। পাহাড়ি ঢলের কারণে বর্ষাকালে খরস্রোতা। দুটি নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। সেতু দুটি সরু আর নড়বড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলাবাসী ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে।

ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক মোখলেছুর রহমান শিক্ষকতা করেন তারাকান্দা উপজেলা উপজেলার একটি কলেজে। সেতু ভাঙার কারণে আজ ডিঙি নৌকায় করে পার হয়েছেন খরস্রোতা কংস। মোখলেছুর রহমান বলেন, সপ্তাহের পাঁচ দিন আমাকে কলেজে যেতে হয়। সেতু ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই কষ্ট করতে হবে। আমার মতো অনেক নারী ও শিশুকেও ডিঙিতে করে কংস পার হতে হয়েছে।

ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দু ভুষণ বিশ্বাস বলেন, ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা যেভাবে বলবে আমরা সেরকম ব্যবস্থা নেব। আপাতত মানুষ বিকল্প পথে চলছে। কেউ কেউ নৌকায় করে কংস নদী পার হয়ে যাতাযাত করছেন। মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।

ধোবাউড়া উপজেলা কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা হওয়ার আগে থেকেই ধোবাউড়া অবহেলিত একটি জনপদ। ১৯৮৩ সালে উপজেলা হয় ধোবাউড়া। শুরুতে এটি নেত্রকোনা জেলার সঙ্গে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ধোবাউড়া সংসদীয় আসন হিসেবে যুক্ত হয় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সঙ্গে। দীর্ঘ সময় কখনো ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেননি। এ কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতো ধোবাউড়ার উন্নয়ন হয়নি।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ইতোমধ্যে প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে সেতুটি সংস্কারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছি।

দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২ কর্মী গ্রেপ্তার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দামুড়হুদায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২ কর্মী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের তারানীপুর গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম (২৬) এবং একই গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মমিনুল হক আকাশ (২৮)। শনিবার (৬ জুন) রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন রাতে উপজেলার চিতলা গ্রামে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজু আহমেদ রিংকুর নেতৃত্বে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন দামুড়হুদা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। গ্রেপ্তাররা ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার তাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

চবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ৬ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটে লেখা হতাশার কথা! | কালের কণ্ঠ