কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পাচারের উদ্দেশে যাত্রীবাহী একটি বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহনের তথ্য আগে থেকেই পুলিশের কাছে ছিল। তবে কোন বাসে মাদকের চালানটি রয়েছে, তা নিশ্চিত ছিল না। এমন সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ এক যাত্রীর ফোনকল আসে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী একটি বাসের গোপন চেম্বার থেকে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে কক্সবাজার বাস টার্মিনালে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বাসটির হেলপারকে আটক করা হলেও চালক পালিয়ে যান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হবে। এ তথ্যের পর রাত ৮টা থেকে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়।
তিনি জানান, নজরদারির এক পর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ এক যাত্রীর ফোনকলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি বাসে ইয়াবা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ দ্রুত সেন্ট মার্টিন ট্রাভেলসের ঢাকাগামী বাসে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসটির চালক নাজমুল (বাড়ি মাদারীপুর) কৌশলে পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে বাসটির হেলপার রাতুল ইসলামকে (বাড়ি সিলেট) আটক করা হয়।
আটক রাতুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসটির একটি সিটের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে তল্লাশি চালিয়ে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, জব্দ বাস ও আটক হেলপারকে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ চালানের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র জড়িত।
উদ্ধার ইয়াবার উৎস, গন্তব্য, অর্থদাতা, রিসিভার ও পলাতক চালক নাজমুলসহ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, একই দিনে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পৃথক আরেকটি অভিযানে একটি মালবাহী পিকআপ থেকে আরো ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে একদিনে সদর থানার দুটি অভিযানে মোট ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। পৃথক এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।




