• ই-পেপার

মা দেখেন মেঝেতে পড়ে আছে ছেলের ও তাঁর প্রেমিকার রক্তাক্ত লাশ

ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্ত

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্ত

ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিলের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ভাঙ্গা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি অনিবার্য কারণবশত আজ ৩ জুলাই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভাঙ্গা পৌরসভার হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২০) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

 

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও হাসামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বরকে (২৮)।

এদিকে গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নিহত সুমনের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে ও কবর জিয়ারত করতে যান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন ) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সেখানে তিনি এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এই মামলায় কেউ কোনো ইন্টারফেয়ার করবে না, করবে না এবং করবে না। আর এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আজকেই আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপনারা খবর পাবেন যে, আজই তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত আমরা ঘোষণা করছি। এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনারা জানতে পারবেন।’

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির এ ঘোষণা আসে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্তের ঘোষণা নিশ্চিত করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সর্বোপরি এই কমিটির এক নেতা হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। এ মামলা যেন নিরপেক্ষ তদন্ত হতে পারে এবং মামলায় যেন কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিস্তারের সুযোগ না ঘটে এ কারণে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারিশে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. নাজিম হোসাইন (২৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার মোটরসাইকেলে থাকা একই বাড়ির আবির নামে আরো এক তরুণ আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দশঘরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া গ্রামের আটঘর এলাকার মিঝি বাড়ির আমিন উল্যার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মোবাইল মেকানিক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিম ও তার প্রতিবেশী আবির মোটরসাইকেলে আটঘর এলাকা থেকে উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় চা খেতে যাচ্ছিলেন। পথে দশঘরিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাজিম মারা যান। অন্যদিকে, আবিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, নিহতের স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সীতাকুণ্ডে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে একটি ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে রবিউল হোসেন নামক এক যুবক। এসময় গৃহবধূ চিৎকার করলে পালিয়ে যায় সে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার  উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের জেলেপাড়ায় জেলে বিপ্লব দাশ সাগরে মাছ শিকারে গেলে গভীর রাতে তার ঘরে ঢুকে যায় রবিউল হোসেন নামক এক যুবক। 
ঘরে ঢুকেই বিপ্লবের স্ত্রীকে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে তিনি চিৎকার শুরু করলে পালিয়ে যায় ওই যুবক।

উপজেলার বাড়বকুণ্ড জেলেপাড়ার ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তার স্বামী বিপ্লব মাছ ধরতে সাগরে যাওয়াতে বসতঘরে একা ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রবিউল হোসেন নামে পাশের গ্রামের এক ব্যক্তি ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালিয়ে গোপনে ভিডিও করে। এক পর্যায়ে সে গলায় চুরি ধরে শরীরের কাপড় টানাটানি করতে থাকে। এসময় বলতে থাকে এ ঘটনা থানা পুলিশকে জানালে গোপনে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশ করে দেবে। 

কিন্তু গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে অবস্থা বেগতিক দেখে ঘর থেকে বের হয়ে চলে যায়। এসময় একটি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় রবিউল।

ওই গৃহবধূর স্বামী বিপ্লব দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার আমি মাছ ধরতে গেলে আমি ঘরে নেই নিশ্চিত হয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার রবিউল রাতে আমার ঘরে ঢুকে। পরে গলায় ছুরি ধরে আমার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সাগর থেকে ঘরে আসলে স্ত্রীর মুখে বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
 
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

মৌলভীবাজারে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেট কার উদ্ধার

মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেট কার উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় পৃথক দুটি অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, রামদা, ছোরা, সুইস গিয়ার ছুরি ও কাটারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মোট ৪৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ৩৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্নার নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের মানগাঁও ত্রিমোহনী সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সৈয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাউছার মিয়া (৩২), বেরিরচক গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৫), কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বিলেরপাড় গ্রামের মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৯) এবং কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরের সতিজিরগ্রাম গ্রামের আসুক আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম মামুন (২৮)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি করোলা প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-৪৫৯৮), একটি হলুদ হাতলযুক্ত কাটার, একটি স্টিলের সুইস গিয়ার ছুরি, একটি লোহার রামদা এবং একটি লোহার ছোরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এর আগের রাতে (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর যৌথ অভিযানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আরেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদ মিয়া (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজনগর উপজেলার কদমহাটা গ্রামের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া কাউছার মিয়ার বিরুদ্ধে ১১টি, জসিম মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং দেলোয়ার হোসেন ওরফে আহাদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি-সংক্রান্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে আন্তঃজেলা অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সড়ক, গ্রামীণ জনপদ ও নির্জন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুলাউড়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত এসব অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না।

মা দেখেন মেঝেতে পড়ে আছে ছেলের ও তাঁর প্রেমিকার রক্তাক্ত লাশ | কালের কণ্ঠ