• ই-পেপার

যে দোয়া পাঠে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সমবায়ের ধারণা

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সমবায়ের ধারণা
সংগৃহীত ছবি

মানুষ সামাজিক জীব। তার পক্ষে একা জীবনের সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। পারস্পরিক সহযোগিতা, অংশীদারি ও সম্মিলিত উদ্যোগ মানুষের পথচলাকে সহজ করে। ইসলাম এই প্রয়োজনকে শুধু স্বীকৃতিই দেয়নি, বরং তা ন্যায়, আল্লাহভীতি ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামী পরিভাষায় প্রচলিত ‘সমবায় সমিতি’ (Cooperative Society) শব্দটি না থাকলেও এর মৌলিক দর্শন তথা পারস্পরিক সহযোগিতা, ন্যায়ভিত্তিক অংশীদারি, সম্পদের সুষম ব্যবহার ও সামাজিক কল্যাণ কোরআন-সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো, কিন্তু পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

এই আয়াত ইসলামী সমবায়ের মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তা হলো যেকোনো যৌথ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হতে হবে কল্যাণ, ন্যায় ও আল্লাহভীতি; অন্যায়, সুদ, প্রতারণা বা মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে সহযোগিতা বৈধ নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম জাতিকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সহযোগিতামূলক সমাজ গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি সুদৃঢ় অট্টালিকার মতো, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৮১)
অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতায় থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

এসব হাদিস থেকে বোঝা যায়, পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর সেখানে সহযোগিতানির্ভর একটি সমাজ বিনির্মাণ করেছিলেন। মদিনার আনসার ও মুহাজির সাহাবিরা পরস্পরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতেন। পারস্পরিক সহযোগিতায় মদিনার মুসলিম সমাজ অল্প দিনেই হিজরতের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সামলে স্বনির্ভর সমাজে পরিণত হয়েছিল।

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সমবায়ের ধারণার সঙ্গে ‘শিরকত’ (অংশীদারি), ‘মুশারাকা’ ও ‘মুদারাবা’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইসলামী ফিকহের দৃষ্টিতে একাধিক ব্যক্তি বৈধ পুঁজিতে অংশীদার হয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে এবং তারা নিজেদের ভেতর ন্যায়সংগতভাবে লাভ-লোকসান ভাগাভাগি করতে পারে। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলাম সুদনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে শ্রম ও সহযোগিতানির্ভর অর্থনীতির দিকে পথনির্দেশ করেছে। ইসলাম এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামোর কথা বলে, যেখানে সুদভিত্তিক শোষণের পরিবর্তে অংশীদারি ও ঝুঁকি ভাগাভাগির নীতি প্রতিষ্ঠিত।

ইসলামী সমবায়ের বৈশিষ্ট্য
ইসলামের দৃষ্টিতে একটি আদর্শ সমবায় সমিতির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। তা হলো—
১. কল্যাণ চিন্তা : ইসলামী সমবায়ের উদ্দেশ্য হবে সদস্যদের আর্থ-সামাজিক কল্যাণ, শুধু মুনাফা অর্জন নয়। কেননা কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে মুসলিম সমাজের সব সহযোগিতা হবে কল্যাণনির্ভর। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো; কিন্তু পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

২. হালাল উৎস ও বিনিয়োগ : ইসলামী সমবায়ের অর্থের উৎস হবে হালাল এবং তা বিনিয়োগও হবে সম্পূর্ণ হালাল খাতে। সুদ, ঘুষ, জুয়া, প্রতারণা বা হারাম ব্যবসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা থাকা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কোরো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৬৮)

৩. আমানতদারিতা : সমবায় পরিচালনায় আমানত রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও গ্রাহক উভয়ের আমানত রক্ষা করা জরুরি। ইসলাম যেকোনো আর্থিক লেনদেনে আমানতদারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি শিক্ষা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, আমানত যথাযথভাবে তার হকদারের কাছে পৌঁছে দিতে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

৪. শুরা নীতি অনুসরণ : ইসলাম সম্মিলিত কাজে শুরা নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়। এতে সমবায়ের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমে যায়, তেমনি স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন, ‘তাদের কাজ পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ৩৮)

৫. হিসাব সংরক্ষণ : লিখিতভাবে হিসাব সংরক্ষণ করা না হলে সমবায়ের স্বচ্ছতা রক্ষা করা যায় না। ইসলাম আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিতভাবে হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়; শুধু তাই নয়, ন্যায়সংগতভাবে তা লেখার নির্দেশ দেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের কারবার করো তখন তা লিখে রাখো। তোমাদের মধ্যে কোনো লেখক যেন ন্যায্যভাবে লিখে দেয়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮২)

বর্তমান সময়ে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন, ক্ষুদ্র সঞ্চয় গড়ে তোলা এবং বেকারত্ব কমাতে ইসলামী নীতিনিষ্ঠ সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুদমুক্ত সমবায়ভিত্তিক অর্থায়ন মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতি শক্তিশালী হয়, যা ইসলামের সামগ্রিক সামাজিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে ইসলামী আদর্শের সমবায় শুধু একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং ন্যায়, আমানতদারিতা, জবাবদিহি ও সদস্যদের পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি কল্যাণমুখী ব্যবস্থা। ইসলাম সমবায়ের এমন একটি মডেল উপস্থাপন করে, যার ভিত্তি প্রতিযোগিতা নয়; বরং সহযোগিতা। এর লক্ষ্য ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে ইসলামের নীতি, আদর্শ ও শিক্ষা বিসর্জন দেওয়ায় বর্তমান সমাজের অনেক সমবায় উদ্যোগে সফল হচ্ছে না এবং তা সমাজের উপকার করার পরিবর্তে তাতে ক্ষত তৈরি করছে, বিশেষত সুদনির্ভর সমবায় সদস্যদের ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দেয় এবং তারা দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক সংকটে পড়ে। এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া হিসাব, প্রতারণা কিংবা সদস্যদের আমানতের অপব্যবহারের অভিযোগও কম নয়। ইসলামী অর্থনীতিতে সুদ, অসততা ও প্রতারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

চিকিৎসাসেবায় সাত নারী সাহাবির অসামান্য অবদান

ইসলামী জীবন ডেস্ক
চিকিৎসাসেবায় সাত নারী সাহাবির অসামান্য অবদান
সংগৃহীত ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসাসেবা এক মহৎ ও সম্মানজনক পেশা। অসুস্থের সেবা, আহতের পরিচর্যা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৩২)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারী সাহাবিরাও চিকিৎসা ও মানব সেবায় অনন্য অবদান রেখে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা, অসুস্থদের পরিচর্যা, খাদ্য ও পানি সরবরাহ—এসব ক্ষেত্রেই তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এসব মহীয়সী নারীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—

১. রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.) : তিনি এই মহীয়সী নারীদের অগ্রভাগে রয়েছেন। তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসা দক্ষতা, মানবিকতা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার অপূর্ব সমন্বয় ছিল তাঁর মধ্যে। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের চিকিৎসার জন্য তিনি একটি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির পরিচালনা করতেন। খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রা.)-এর বাহুর শিরায় আঘাত লাগে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাকে রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও; তিনি আহতদের চিকিৎসা করতেন। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার খোঁজ নিতে এসে সন্ধ্যায় জিজ্ঞেস করতেন, সন্ধ্যা কেমন কাটল? এবং সকালে জিজ্ঞেস করতেন, আজ সকাল কেমন হলো? (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১২৯)

রুফাইদা ছিলেন একজন নারী, যিনি আহতদের চিকিৎসা করতেন। তিনি নিজ উদ্যোগে মুসলিমদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং আহতদের চিকিৎসা-পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতেন। (আল ইসাবাহ : ৮/১৩৬, উসদুল গাবাহ : ৭/১১১, তারজামাহ : ৬৮২৫, ফাতহুল বারি : ৭/৬১৪)

এ ঘটনা রুফাইদা (রা.)-এর চিকিৎসা দক্ষতার প্রতি নববী স্বীকৃতির উজ্জ্বল প্রমাণ।

২. উম্মে আতিয়্যা আল-আনসারিয়া (রা.) : উম্মে আতিয়্যা আল-আনসারিয়া ছিলেন চিকিৎসাসেবায় আরেক অনন্য নাম। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি সৈন্যদের পেছনে অবস্থান করতাম, তাদের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা করতাম।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮১২)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে চিকিৎসা ও সেবাব্যবস্থায় নারী সাহাবিদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

৩. উম্মে সুলাইম (রা.) : উম্মে সুলাইম (রা.)-এর জীবনেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি সরবরাহ করতেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেন এবং জরুরি মুহূর্তে সাহসিকতার সঙ্গে সেবায় আত্মনিয়োগ করতেন। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মে সুলাইম ও আনসারদের কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে যেতেন, তাঁরা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ১৮১০)

৪. রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.) : হাদিসে এসেছে, রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.)-ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা (যুদ্ধের ময়দানে) নবী (সা.)-এর সঙ্গে থেকে লোকদের পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং নিহতদের মদিনায় পাঠাতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ২৮৮২)

এ বর্ণনা যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সাহাবিদের সেবামূলক ভূমিকার এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।

৫. নুসাইবা বিনতে কাব (রা.) : নুসাইবা বিনতে কা‘ব (রা.) শুধু বীর যোদ্ধাই ছিলেন না; যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের পানি পৌঁছে দেওয়া, সেবাযত্ন করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার মহান দায়িত্বও পালন করেছেন। (আল ইসাবাহ : ৮/৩৩৪)
তাঁর জীবনে বীরত্ব ও মানবসেবার অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ করা যায়।

৬. উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ফিকহ, হাদিস ও শরিয়তে তাঁর গভীর প্রজ্ঞার পাশাপাশি চিকিৎসাবিদ্যায়ও তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। উরওয়া ইবন যুবাইর বলেন, ‘চিকিৎসাবিদ্যা, ফিকহ ও কবিতায় আমি আয়েশা (রা.)-এর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।’ (আল ইসাবাহ : ৮/২৩৩)

৭. হামনা বিনতে জাহশ (রা.) : হামনা বিনতে জাহশ (রা.) উহুদের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাতেন এবং আহতদের সেবা করতেন। (আত তবাকাতুল কুবরা লি ইবনে সাদ : ৮/১৯১, তারজামাহ : ৪১৭৮)

তাঁর এই আত্মনিবেদন যুদ্ধকালীন মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।এভাবে নারী সাহাবিদের জীবন আমাদের সামনে এক অনন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তাঁরা শিখিয়েছেন পর্দা, শালীনতা ও তাকওয়ার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেও চিকিৎসা ও মানব সেবায় অসাধারণ অবদান রাখা সম্ভব।

তাই উল্লিখিত নারী সাহাবিদের জীবনী আজকের নারী চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৪ ‍জুলাই ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৪ ‍জুলাই ২০২৬

আজ শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৮ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৬ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪২ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৪ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ২০ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫২ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৪ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন

অনলাইন ডেস্ক
যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন
সংগৃহীত ছবি

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। পরকালে সফল হতে অবশ্যই এই পরীক্ষায় সফলকাম হতে হবে। এরপরই মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)

এজন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ বা পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষার পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.) এর আদর্শ এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ জরুরি। তাই পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের যেমন নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এর মধ্যে একটি হাদিসে মুমিনের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা এসেছে, যার ফলে খোদ নবীজি (সা.) এই তিন বৈশিষ্ট্যের মানুষদের জন্য জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন।

আবু উমামা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮০০)