অস্ট্রেলিয়ায় হেরোইন পাচারের অভিযোগে থাই এয়ারওয়েজের একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে (কেবিন ক্রু) আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার মূল্যমানের এই মাদক জব্দের ঘটনা থাইল্যান্ডে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সাথে এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, পাচারকারীরা ফেসবুকে ‘রোজ রোজ’ এবং টিকটকে ‘পাউডার ইজ পাউডার’ নামের ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিমানকর্মীদের টাকার বিনিময়ে বিদেশে মালামাল বহন করার প্রস্তাব দেয়।
তদন্তে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লাভজনক বাজারগুলোতে মাদক পৌঁছে দিতে এখন বিমানসংস্থার কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। আটক হওয়া থাই এয়ারওয়েজ কর্মী মাত্র ৮,৮০০ বাথ (প্রায় ২৬৫ ডলার) ফির বিনিময়ে ব্যাগগুলো বহন করতে রাজি হয়েছিলেন। থাইল্যান্ডের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (ওএনসিবি) মুখপাত্র আরিপাক এনগের্নবামরুং জানান, এই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে থাকা নেটওয়ার্কটি খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
ওএনসিবি-র (থাইল্যান্ডের নারকোটিকস কন্ট্রোল বোর্ড অফিস) মহাসচিব পুলিশ মেজর সুরিয়া সিংগাকামল জানান, এই চক্রগুলো পোশাক, কফির প্যাকেট ও ফুলদানির ভেতর মাদক লুকিয়ে থাইল্যান্ডের মধ্য দিয়ে পাচার করে। একই চক্র গত ৩০ জুন থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে রেশমি পোশাক ও শীতের জ্যাকেটের ভেতর লুকিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও তাইওয়ানে আরো ২৪.৩৮ কেজি হেরোইন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা কর্তৃপক্ষ জব্দ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে এক থাই নাগরিক ও তার লাওসীয় স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাংককের আরেকজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রয়টার্সকে জানান, গত ১৮ জুন তার টিকটক ইনবক্সেও অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার রেট জানতে চেয়ে এমন বার্তা এসেছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী অপরিচিতের পাঠানো সেই বার্তা তিনি উপেক্ষা করেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) শীর্ষ জাতীয় মাদকবিরোধী কমিটির বৈঠকে থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই থাইল্যান্ড থেকে আসা অন্তত ছয়জনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক মাদক পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই সংখ্যা অনেক বেশি এবং এটি দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে। সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন থেকে বিমানবন্দরে ক্রু সদস্যদের লাগেজ স্ক্রিনিং ও পরিদর্শন আরো শক্তিশালী করা হবে। অন্য কারো মালামাল বহন করার প্রমাণ মিললে বিমানসংস্থাগুলো কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। এক বিবৃতিতে থাই এয়ারওয়েজও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
জাতিসংঘের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রতিবেশী মিয়ানমারে সংঘাত ও অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে আফিম চাষ ২০২৫ সালে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মিয়ানমার এখন বিশ্বে অবৈধ আফিমের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।





